এশীয় জলসীমায় ইরানের ৩টি তেলবাহী ট্যাংকার আটকাল যুক্তরাষ্ট্র
মধ্যপ্রাচ্যে বিরাজমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই ইরানের অন্তত তিনটি বিশালাকার তেলবাহী ট্যাংকার আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সঙ্গে ইরানি বন্দর অভিমুখী কিংবা বন্দর থেকে ছেড়ে আসা আরও ২৯টি জাহাজকে গতিপথ পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়া, ভারত ও শ্রীলঙ্কার নিকটবর্তী এশীয় জলসীমা থেকে ইরানি পতাকাবাহী এই ট্যাংকারগুলো আটক করা হয়। মার্কিন বাহিনীর বাধার মুখে জাহাজগুলো তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়।
আটককৃত জাহাজগুলোর মধ্যে ‘ডিপ সি’ নামক একটি সুপারট্যাংকার রয়েছে, যা আংশিকভাবে অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। এছাড়া ১০ লাখ ব্যারেল ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ‘সেভিন’ নামের একটি ট্যাংকার আটক করা হয়েছে, যা সে সময় প্রায় ৬৫ শতাংশ তেল ভর্তি ছিল। আটক হওয়া তৃতীয় জাহাজটির নাম ‘ডোরেনা’; এটি একটি বিশাল ট্যাংকার এবং এতে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বোঝাই ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কমান্ড সেন্টকম (CENTCOM) জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোতে তাদের নৌ অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২৯টি জাহাজকে তারা ফিরে যেতে অথবা পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বসানো কথিত নৌ-মাইন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। পেন্টাগন কংগ্রেসকে জানিয়েছে, সমুদ্রপথের এই মাইনগুলো পরিষ্কার করতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তবে বর্তমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি পুরোপুরি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত মাইন অপসারণের মতো কোনো অভিযানে যাবে না তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর নৌ অবরোধ এবং জাহাজ জব্দের ঘটনা ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ