আ.লীগ ও জামায়াত একই জিনিস, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে : ইশরাক

অনলাইন ডেস্কঃ
৪ জুন, ২০২৬ ১২:৫২ পিএম
শেয়ার করুন:
আ.লীগ ও জামায়াত একই জিনিস, আমাদের সতর্ক থাকতে হবে : ইশরাক

আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীকে একই ধরনের রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করে তাদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তিনি বলেন, “বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো গণহত্যার অভিযোগ নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে গণহত্যার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে। মূলত এই দুটি দল একই জিনিস। এদের বিষয়ে আমাদের সবসময় সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে।”

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে নোয়াখালীর চাটখিলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রশ্নবিদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা তালিকা ও স্বাধীনতা বিরোধীদের চক্রান্ত
অনুষ্ঠানে বিগত সরকারের সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যারা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি কিংবা মুক্তিযুদ্ধের সময় যাদের বয়স ছিল মাত্র ৮-১০ বছর, তাদেরকেও অন্যায়ভাবে বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী সরকার মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে পুরো তালিকাটিই আজ প্রশ্নবিদ্ধ। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে যখন ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ শব্দটি শুনতে হয়, তখন আমার বুক ফেটে যায়। এটা আমাদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”

স্বাধীনতা বিরোধীদের অপতৎপরতার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর এই স্বাধীনতা বিরোধীরা আমাদের মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসকে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারা মিথ্যা বয়ান তৈরি করে বাংলাদেশকে আবারও পাকিস্তানপন্থী করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। এমনকি তারা বলতে দ্বিধা করছে না যে পাকিস্তানই ভালো ছিল। তবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবসময় মুক্তিযুদ্ধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের কোথাও কোনো অপমান বা অসম্মান করা হলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না, তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও ত্যাগের ইতিহাস
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে একটি গণমানুষের আন্দোলন হিসেবে আখ্যায়িত করে ইশরাক হোসেন বলেন, “৭১-এর পর ২০২৪ সালে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে, তা ছিল সাধারণ মানুষের আন্দোলন। এর কৃতিত্ব আমাদের সবার, যারা বিগত ১৭ বছর ধরে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রাম করেছি। এই লড়াইয়ে আমাদের ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো নেতাদের গুম করা হয়েছে। হাজারো মানুষ হত্যার শিকার হয়েছেন। ৫ই আগস্টের পর আমরা কখনোই বলিনি যে এই আন্দোলনের একক কৃতিত্ব আমাদের। আমরা কোনো কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য আন্দোলন করিনি, সাধারণ মানুষের ওপর জুলুমের সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পরই আমরা রাজপথে নেমেছি।”

প্রশাসনিক সংস্কার ও সরকারের পথচলা

সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সাধারণত যেকোনো গণতান্ত্রিক সরকার মূল্যায়নের জন্য প্রথম ১৮০ দিন সময় পেয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের সরকার সেই সময়টুকুও পায়নি। বিগত ১৭ বছরের যে জঞ্জাল প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভেতরে ঢুকে রয়েছে, তা সরাতে গিয়ে আমি নিজে প্রতিনিয়ত অভিজ্ঞতা লাভ করছি। এই জঞ্জাল দূর করে দেশকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে নিয়ে যেতে হলে আমাদের কিছুটা সময় দিতে হবে।”

তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করেছি। কোনো রাজাকার বা ফ্যাসিবাদী শক্তি যদি মনে করে আমাদের পতন ঘটিয়ে দেবে, তবে তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে। আমরা এখনো ধৈর্য ধরে আছি, দেশে কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না। তবে প্রয়োজন হলে আবারও রাজপথে নেমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশকে রাজাকারমুক্ত করতে মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী প্রজন্ম প্রস্তুত রয়েছে।”

অনুষ্ঠানের অন্যান্য বিবরণ
চাটখিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।