মহাসড়কে দুর্ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতে প্রতি ১০ কিলোমিটারে থাকবে অ্যাম্বুল্যান্স

অনলাইন ডেস্কঃ
১৯ জুলাই, ২০২৬ ১:৫৪ পিএম
শেয়ার করুন:
মহাসড়কে দুর্ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিতে প্রতি ১০ কিলোমিটারে থাকবে অ্যাম্বুল্যান্স

দেশে প্রথমবারের মতো চালু হতে যাচ্ছে দুর্ঘটনা-পরবর্তী সমন্বিত জরুরি সেবা (পোস্ট-ক্র্যাশ রেসপন্স)। মহাসড়কে দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে প্রতি ১০ কিলোমিটার পর পর একটি করে অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এই বিশেষ সেবাটি চলতি জুলাই মাসের শেষ দিকে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার পরিকল্পনা করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ)।

প্রথম পর্যায়ের রুট ও ‘গোল্ডেন আওয়ার’ লক্ষ্য
উদ্যোগটি প্রাথমিকভাবে ‘বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্ট’-এর আওতায় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ করিডরে শুরু হতে যাচ্ছে। করিডরগুলো হলো— 
জয়দেবপুর চৌরাস্তা-টাঙ্গাইল-রাজশাহী 
জয়দেবপুর চৌরাস্তা-ময়মনসিংহ 
সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল-রংপুর 

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যে (যাকে চিকিৎসার ভাষায় ‘গোল্ডেন আওয়ার’ বলা হয়) প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আওতায় আনাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ১০ কিলোমিটার পর পর একটি করে মোট ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট (বিএলএস) অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

জিপিএস ট্র্যাকিং ও দক্ষ কর্মী দল
প্রতিটি অ্যাম্বুল্যান্সে চালকের পাশাপাশি একজন করে প্রশিক্ষিত প্যারামেডিক বা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট থাকবেন। তারা দুর্ঘটনাস্থলেই আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুততম সময়ে নিকটস্থ হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করবেন। 

পুরো সেবাটি একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে মনিটর করা হবে। প্রতিটি অ্যাম্বুল্যান্সে জিপিএস ট্র্যাকার থাকায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে এগুলোর অবস্থান সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা যাবে। কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে কাছাকাছি থাকা অ্যাম্বুল্যান্সটিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে। ৬০টি অ্যাম্বুল্যান্সের কয়েকটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রীয় দপ্তরে জরুরি ব্যাকআপ হিসেবে সংরক্ষিত থাকবে।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক ও সম্পূর্ণ ফ্রি সেবা
অ্যাম্বুল্যান্স পৌঁছানোর পূর্ববর্তী সময়ে যাতে আহত ব্যক্তিরা প্রাথমিক সহায়তা পান, সেজন্য মহাসড়কসংলগ্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাদের ফার্স্ট এইড বক্সও সরবরাহ করা হবে।

সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক বিষয় হলো, এই অ্যাম্বুল্যান্স ও প্রাথমিক চিকিৎসা সেবাটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হবে। দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবারকে কোনো ধরনের ফি বা অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে নিয়োজিত সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ ব্যয় প্রকল্পের তহবিল থেকে মেটানো হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশিকা মেনে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সরঞ্জাম সরবরাহ করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

আগামী পরিকল্পনা
বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রজেক্টের পরিচালক ও সওজের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাব্বির হাসান খান জানান, চলতি মাসেই ৬০টি অ্যাম্বুল্যান্সের মাধ্যমে এই পরীক্ষামূলক কার্যক্রমটি আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই পাইলট প্রকল্পের অভিজ্ঞতা ও সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য প্রধান মহাসড়কগুলোতেও এই দুর্ঘটনা-পরবর্তী সমন্বিত জরুরি সেবা সম্প্রসারণ করা হবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।