গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্টের রায়

অনলাইন ডেস্কঃ
১১ মে, ২০২৬ ১:৪৩ পিএম
শেয়ার করুন:
গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, প্রকাশ করা যাবে না: হাইকোর্টের রায়

অনাগত সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা পরীক্ষা করে দেখা বা প্রকাশ করার ওপর চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা জানানোর অনৈতিক চর্চা বন্ধে এক ঐতিহাসিক রায়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করেন।

এর আগে, ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত এই বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত রায় দিয়েছিলেন। আজ পূর্ণাঙ্গ রায়ের মাধ্যমে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জনসমক্ষে এলো।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও রায়ের ভিত্তি:  
রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করা নারীর প্রতি চরম বৈষম্য তৈরি করে। এটি মূলত কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি করে এবং সমাজে লিঙ্গ বৈষম্য ও ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে, যা দেশের সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি। আদালত মনে করেন, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা এবং জীবনের অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করে এবং এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনেরও লঙ্ঘন।

বাস্তবায়নে কড়াকড়ি:  
হাইকোর্ট আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এই অনৈতিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কোনো তদারকি বা জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা ছিল না। আদালত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শুধু নীতিমালা বা গাইডলাইন তৈরি করলেই এই সমস্যার সমাধান হবে না। এই চর্চা পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে ডিজিটাল নজরদারি, কঠোর নিয়ন্ত্রণ এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

এই রায়ের ফলে এখন থেকে কোনো হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা চিকিৎসক গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করতে পারবেন না। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত দেশের নারী অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক ভারসাম্য রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।