‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি: অভিশংসনের মুখে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা
‘ফার্মগেট নাম দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগে অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মুখে পড়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই গুরুতর অভিযোগ তদন্তে দেশটির পার্লামেন্ট একটি বিশেষ অভিশংসন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত
এই কেলেঙ্কারির শুরু ২০২০ সালে। সে সময় প্রেসিডেন্ট রামাফোসার ব্যক্তিগত মালিকানাধীন ‘ফালা ফালা’ গেম ফার্ম থেকে সোফার ভেতরে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা চুরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, সোফার কুশনের নিচে প্রায় ৪০ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৪ কোটি টাকা) লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা রামাফোসার খামারবাড়িতে এভাবে অর্থ লুকিয়ে রাখার বিষয়টি জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়। এই অর্থের উৎস কী, কেন তা ব্যাংকে না রেখে আসবাবের ভেতরে রাখা হয়েছিল এবং এ বিষয়ে যথাযথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল কি না—তা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক।
আদালতের রায় ও পার্লামেন্টের পদক্ষেপ
দীর্ঘ চার বছর ধরে এই তদন্ত প্রক্রিয়া নানা আইনি জটিলতায় থমকে ছিল। তবে গত সপ্তাহে দক্ষিণ আফ্রিকার সাংবিধানিক আদালত এক ঐতিহাসিক রায়ে জানায়, রামাফোসার বিরুদ্ধে তদন্ত আটকে দেওয়ার জন্য পার্লামেন্ট আগে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা ছিল অসাংবিধানিক। আদালতের এই নির্দেশের পরই পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের স্পিকার তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দেন। এই কমিটি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে থাকা প্রমাণগুলো যাচাই করবে এবং অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে সুপারিশ করবে।
রামাফোসার অবস্থান
প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা শুরু থেকেই সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। সম্প্রতি জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, তিনি আদালতের রায়কে সম্মান করেন, তবে পদত্যাগ করবেন না। বরং একটি স্বাধীন প্যানেলের রিপোর্টের বিরুদ্ধে তিনি আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন, যেখানে প্রাথমিকভাবে তাঁর অসদাচরণের প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক অস্থিরতা
২০১৮ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা রামাফোসার ওপর পদত্যাগের চাপ দিচ্ছে বিরোধী দলগুলো। বিশেষ করে ‘ইকোনমিক ফ্রিডম ফাইটারস’ (ইএফএফ) এবং ‘আফ্রিকান ট্রান্সফরমেশন মুভমেন্ট’ (এটিএম) তাঁর কঠোর সমালোচনা করছে। এদিকে রামাফোসার নিজ দল ‘আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেস’ (এএনসি) উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছে।
অভিশংসনের ভবিষ্যৎ
পার্লামেন্টে অভিশংসন কমিটি গঠন হলেও রামাফোসা টিকে যাবেন বলেই ধারণা করা হচ্ছে। কারণ দক্ষিণ আফ্রিকার আইন অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে অপসারণ করতে হলে পার্লামেন্টে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে এএনসি কিছুটা শক্তি হারালেও এখনো নিম্নকক্ষে তাদের এমন অবস্থান রয়েছে যে, বিরোধীদের পক্ষে রামাফোসা বিরোধী প্রস্তাব পাস করা বেশ কঠিন হবে।
তথাপি, এই ‘ফার্মগেট’ কেলেঙ্কারি দক্ষিণ আফ্রিকার রাজনীতিতে রামাফোসার ইমেজ এবং এএনসি-র ভবিষ্যৎকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ