সাবেক যুবলীগ নেতা সম্রাটের ২০ বছরের কারাদণ্ড
অবৈধ সম্পদ অর্জনের দায়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাবেক সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটকে পৃথক দুই ধারায় মোট ২০ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৬-এর বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় সম্রাটের জামিন বাতিল করে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইনের পৃথক দুটি ধারায় সম্রাটকে ১০ বছর করে মোট ২০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের বিশেষত্ব হলো, একটি ধারার সাজা ভোগ করার পর অন্য ধারার সাজা শুরু হবে। ফলে তাকে দীর্ঘ ২০ বছর কারাগারে কাটাতে হবে। এছাড়া প্রতিটি ধারায় ১০ লাখ টাকা করে মোট ২০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে; যা পরিশোধ না করলে তাকে অতিরিক্ত এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
২০১৯ সালের ১২ নভেম্বর দুদকের উপপরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে সম্রাটের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৮৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সম্রাটের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
গত বছরের ১৭ জুলাই আদালত সম্রাটের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে অভিযোগপত্রভুক্ত ২১ জন সাক্ষীর প্রত্যেকের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয় এবং ৯ ফেব্রুয়ারি উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন (২৫ ফেব্রুয়ারি) ধার্য করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানের সময় ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আজ এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ