এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় সরকার টিসিবির পণ্য বরাদ্দ দিলেও নীলফামারীর জলঢাকায় এক ডিলারের বিরুদ্ধে ওজনে কম দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের গাবরোল টগরার ডাঙ্গা এলাকায় ‘মেসার্স আল মদিনা স্টোর’ নামক একটি ডিলার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চাল, ডাল ও চিনি ওজনে কম দেওয়ার এই ঘটনা ঘটে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ওই ডিলারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আশেদুল হক ও তার বাবা পণ্য বিতরণের সময় প্রতিটি প্যাকেটে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে কম পণ্য দিচ্ছেন। ওই এলাকায় প্রায় ১৭০০ কার্ডধারীর মাঝে ৬০০ টাকা মূল্যের প্যাকেজে সয়াবিন তেল, চাল, মসুর ডাল ও ছোলা (বুট) বিক্রি করা হচ্ছে। কিন্তু কার্ডধারীদের অভিযোগ, সয়াবিন তেল বাদে অন্য সব পণ্যেই ওজনে ঘাটতি রাখা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী রোকছানা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "এই ডিলার সয়াবিন তেল বাদে আর সব পণ্যেই ওজনে কম দিচ্ছেন। আমাদের অভাবের সংসার, সরকার আমাদের সাহায্য দিচ্ছে কিন্তু এখানেও আমাদের ঠকানো হচ্ছে। এটা দেখার যেন কেউ নেই।"
নজরুল ইসলাম নামের অন্য এক সুবিধাভোগী বলেন, "সরকার তো পণ্য ঠিকই দিচ্ছে, কিন্তু ডিলার কেন কম দেবেন? আমাদের কাছ থেকে তো টাকা কম নেওয়া হয় না। ১৭০০ মানুষকে যদি এভাবে অল্প অল্প করে কম দেওয়া হয়, তবে বিপুল পরিমাণ পণ্য ডিলার অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি করে দিচ্ছেন।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো কার্ডধারী ওজনে কম দেওয়ার প্রতিবাদ করলে ডিলারের পক্ষ থেকে প্রভাব খাটিয়ে তাদের মুখ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এছাড়া সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে পণ্য বিতরণের কথা থাকলেও, কোনো কর্মকর্তার উপস্থিতি ছাড়াই ডিলার নিজের ইচ্ছামতো বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
ওজনে কম দেওয়ার সত্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিলার আশেদুল হক দায় স্বীকার করে দায়সারাভাবে বলেন, "অনেক সময় ভুলবশত ওজনে কিছুটা কম হতে পারে।"
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জাহিদ ইমরুল মোজাক্কিন জানান, "টিসিবির পণ্য ওজনে কম দেওয়া একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছি। তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"