জলঢাকায় ৭১ কারবারীর তালিকা প্রকাশ করলেন ওসি
নীলফামারীর জলঢাকায় মাদক নির্মূলে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ। উপজেলার তালিকাভুক্ত সকল মাদক কারবারীকে আগামী ৭ দিনের মধ্যে থানায় আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার ইউনিয়ন ভিত্তিক ৭১ জন মাদক কারবারীর নাম ও ঠিকানা জনসম্মুখে প্রকাশ করেন তিনি। ওসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, জলঢাকা পৌরসভায় ৮ জন, গোলমুন্ডা ইউনিয়নে ২৩ জন, ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নে ২ জন, বালাগ্রাম ইউনিয়নে ২ জন, গোলনা ইউনিয়নে ৫ জন, শিমুলবাড়ী ইউনিয়নে ৬ জন, খুটামারা ইউনিয়নে ৮ জন, কাঁঠালী ইউনিয়নে ৬ জন, শৌলমারী ইউনিয়নে ৫ জন এবং কৈমারী ইউনিয়নে ৬ জন মাদক কারবারী রয়েছেন।
অফিসার ইনচার্জ নাজমুল আলম বলেন, "আমরা জল ঢাকাকে মাদক মুক্ত করার লক্ষ্যে মাদক কারবারীদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার একটি সুযোগ দিচ্ছি। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের থানায় এসে আত্মসমর্পণ করতে হবে। এমনকি যারা ইতিমধ্যে মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন বলে দাবি করছেন, তাদেরও থানায় এসে লিখিতভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় তাদের সক্রিয় মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে গণ্য করা হবে এবং নির্ধারিত সময়ের পর পুলিশ কঠোর অ্যাকশনে যাবে।"
তিনি আরও বলেন, "আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আমরা সাধারণ জনগণকে সাথে নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সামাজিকভাবে প্রতিহত করব। মাদকমুক্ত জলঢাকা গড়তে আমরা যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছি।"
প্রকাশিত তালিকার উল্লেখযোগ্য নামসমূহ নিম্নরূপ:
গোলমুন্ডা ইউনিয়ন:
১. শাহিনুর (পিতা মৃত আব্দুল লতিফ পান্ডা), ২. শাহিনুর ওরফে খোকন (পিতা মৃত ময়েজ উদ্দিন), ৩. খতিয়ার (পিতা মৃত ময়েজ উদ্দিন), ৪. রিপন মিয়া ওরফে আসাদ (পিতা মৃত মোহাম্মদ আলী), ৫. সাজু ওরফে হাসান (পিতা মৃত আহমদ মোহাম্মদ), ৬. লেবু মিয়া (পিতা মৃত আহাদ আলী), ৭. বাবুল (পিতা মৃত মোহাম্মদ আলী), ৮. আল আমিন (পিতা শামসুল হক), ৯. লিমন ওরফে লেবু (পিতা মৃত মোহাম্মদ আলী), ১০. জাহিদুল ইসলাম (পিতা আবু বক্কর সিদ্দিক), ১১. মোতাহার হোসেন (পিতা হারুনুর রশিদ), ১২. শরিফুল ইসলাম (পিতা হামিদুল ইসলাম), ১৩. দুদু মিয়া (পিতা জাফর আলী), ১৪. নুরুজামান (পিতা নুর ইসলাম), ১৫. মাহফুজ (পিতা মফিজ উদ্দিন), ১৬. এনামুল হক (পিতা আজিজুল ইসলাম), ১৭. রুজিফা আক্তার (স্বামী এনামুল হক), ১৮. শফিউর রহমান (পিতা মিন্টু মিয়া), ১৯. শাওন (পিতা আব্দুল জব্বার), ২০. তবারক মিয়া (পিতা হালিমুর রহমান), ২১. সিরাজুল ইসলাম (পিতাাহিদুল ইসলাম), ২২. রহিদুল ইসলাম (পিতা মোজাম্মেল হক মোজা), ২৩. মইনুল ইসলাম (পিতা মোজাম্মেল)।
ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন:
২৪. আজহারুল ইসলাম শীল (পিতা মৃত জমির উদ্দিন), ২৫. ফারুক (পিতা রবি)।
বালাগ্রাম ইউনিয়ন:
২৬. লেলিন (পিতা মোফাজ্জল হোসেন), ২৭. বাবুল (পিতা মোফাজ্জল মেম্বার)।
গোলনা ইউনিয়ন:
২৮. বাবলুর (পিতা মৃত ছলেমান হক), ২৯. আয়েশা বেগম (স্বামী বাবলু মিয়া), ৩০. সুশীল বৈশ্য (পিতা মৃত বালি বৈশ্য), ৩১. তন্না (পিতা মৃত মফিজ উদ্দিন), ৩২. আলমগীর (পিতা আলিম উদ্দিন)।
শিমুলবাড়ি ইউনিয়ন:
৩৩. আশরাফুল (পিতা মৃত আলতাব হোসেন), ৩৪. বিলাস রায় (পিতা জ্যোতিষ মাস্টার), ৩৫. আব্দুস সামাদ (পিতা মোকসেদ মেকার), ৩৬. আজম খান (পিতা মৃত আব্দুর রহমান), ৩৭. আইজুল ওরফে বানিয়া (পিতা মৃত ইয়াসিন খান), ৩৮. বুলবুল (পিতা মৃত জামিয়ার রহমান)।
খুটামারা ইউনিয়ন:
৩৯. জাহিদুল ইসলাম মাস্টার (পিতা নুরুল হক), ৪০. মনোয়ার হোসেন (পিতা মৃত ছয়ফল), ৪১. সাদ্দাম হোসেন ওরফে ডিজে সাদ্দাম (পিতা আজনুর), ৪২. সোহাগী বেগম (স্বামী হবিবুর রহমান হবি), ৪৩. কেফাতন (স্বামী দেলওয়ার হোসেন), ৪৪. বেলাল হোসেন (পিতা টন্না মামুদ), ৪৫. ফুলতি বেগম (স্বামী ছয়ফল), ৪৬. সাইফুল ইসলাম।
কাঁঠালী ইউনিয়ন:
৪৭. সাইদার রহমান (পিতা আইয়ুব আলী), ৪৮. মনির হোসেন (পিতা হবিবুর রহমান), ৪৯. মোখলেসার ওরফে মোকলে (পিতা মৃত শওকত আলি—ইতিমধ্যে আত্মসমর্পণ করেছেন), ৫০. সেলিম মিয়া (পিতা মৃত রমজান আলী), ৫১. কবির হোসেন (পিতা রফিকুল ইসলাম), ৫২. হানিফ (পিতা মোখলেছার)।
শৌলমারী ইউনিয়ন:
৫৩. আতাউর রহমান আতা (পিতা মফিল উদ্দিন), ৫৪. শামীম হোসেন (পিতা মৃত আহমেদ হোসেন), ৫৫. নজরুল (পিতা খেচো মামুদ), ৫৬. রফিকুল ইসলাম (পিতা মৃত আঃ সোবহান), ৫৭. হাফিজুল ইসলাম হাপু (পিতা খেচো মাহমুদ)।
পুলিশ প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এলাকার সচেতন মহলে। এখন দেখার বিষয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কতজন মাদক কারবারী সুস্থ জীবনে ফিরে আসার পথে পা বাড়ান।
What's Your Reaction?
হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, জলঢাকা প্রতিনিধি, নীলফামারীঃ