মধ্যপ্রাচ্যের ২৭ মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ভয়াবহ হামলা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহতের জেরে চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। প্রতিশোধ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে নতুন করে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইরান।
তেহরানের দাবি, টানা ষষ্ঠবারের মতো মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও সেনাদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে এসব এলাকার বিভিন্ন স্থানে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো হচ্ছে।
উদ্ভূত এই যুদ্ধাবস্থার কারণে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। সার্বিক নিরাপত্তাজনিত কারণে আগেই সতর্ক অবস্থানে ছিল দেশগুলো। চলমান এই উত্তেজনার জেরে দেশগুলোতে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সব ধরনের উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে পবিত্র তারাবির নামাজ।
এর আগে, ইসরায়েলের তেলআবিবের বিভিন্ন সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলা চালায় ইরান। ওই হামলায় অন্তত একজনের মৃত্যু এবং ১২২ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। হামলায় বিধ্বস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে জরুরি সেবাদানকারী বাহিনী।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা কে হবেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, খামেনির মৃত্যুর পর দ্রুত নতুন নেতা নিয়োগ দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। অন্যদিকে আফগানিস্তানের কাবুলে একটি পাকিস্তানি বিমান লক্ষ্য করে গুলির ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছে রয়টার্স। সব মিলিয়ে পুরো অঞ্চলটিতে এখন এক থমথমে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।
What's Your Reaction?
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ