এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
শিক্ষা শুধু অক্ষরজ্ঞান নয়, শিক্ষা হলো একটি জাতির আত্মাকে জাগিয়ে তোলা। আর সেই জাগরণের প্রদীপ হয়ে আলফাডাঙ্গার মাটিতে আলো ছড়াচ্ছেন আলফাডাঙ্গা মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শামসের উদ্দিন। কোমলমতি শিশুদের হৃদয়ে জ্ঞানের বীজ বুনে, নৈতিকতার সুর বাজিয়ে এবার তিনি ছিনিয়ে নিলেন উপজেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (পুরুষ) এর গৌরবময় মুকুট।
প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক কমিটির কঠোর যাচাই-বাছাইয়ে শামসের উদ্দিন প্রমাণ করেছেন, নিষ্ঠা আর ভালোবাসা থাকলে সীমিত সম্পদেও শিক্ষার আঙিনা ফুলে-ফলে ভরে তোলা যায়। পাঠদানের আধুনিক কৌশল, খেলার ছলে শেখানো, সৃজনশীল কর্মকাণ্ড, নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা এবং বিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে তার অবদান মূল্যায়ন কমিটির দৃষ্টি কেড়েছে।
শ্রেণিকক্ষে শামসের উদ্দিন মানে শুধু পড়াশোনা নয়, একটা উৎসব। গল্প, ছড়া, অভিনয় আর হাতে-কলমে শিক্ষার মাধ্যমে তিনি শিশুদের মনে পড়ার প্রতি ভালোবাসা জাগিয়ে তোলেন। শিক্ষার্থীদের ভাষায়, “স্যার আমাদের শুধু পড়ান না, আমাদের বন্ধু হন, আমাদের স্বপ্ন দেখতে শেখান।”
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (চ.দা) জেসমিন আরা সুলতানা আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, শামসের উদ্দিন একজন সত্যিকারের শিক্ষক। তিনি শ্রেণিকক্ষের বাইরেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা আর সহশিক্ষা কার্যক্রমে প্রাণ সঞ্চার করেন। ৭০৬ জন শিক্ষার্থী ও ১৩ জন শিক্ষকের এই পরিবারে তার অবদান অনস্বীকার্য। তার এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্য গর্ব, আর অন্য শিক্ষকদের জন্য পথের দিশা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত যত মজবুত হবে, জাতি ততই এগিয়ে যাবে। শামসের উদ্দিন সেই ভিত গড়ার কারিগর। তার নিষ্ঠা ও সৃজনশীলতা অনুকরণীয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও প্রাথমিক শিক্ষা পদক কমিটির সভাপতি রিফাত নূর মৌসুম বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক পারেন একটি প্রজন্মকে বদলে দিতে। শামসের উদ্দিন আজ আলফাডাঙ্গার শিক্ষাক্ষেত্রে সেই আলোকবর্তিকা। তার এই সম্মাননা আমাদের সবার জন্য অনুপ্রেরণা।
আনন্দের জোয়ার বইছে অভিভাবক মহলেও। স্থানীয় এক অভিভাবক বলেন, আমার ছেলে আগে স্কুলের নাম শুনলেই মুখ ভার করত। এখন স্যারের জন্য ভোরে ঘুম থেকে ওঠে। এমন শিক্ষক পাওয়া সন্তানের ভাগ্য।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত শামসের উদ্দিন বলেন, এই স্বীকৃতি আমার একার নয়, এটি আমার শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও বিদ্যালয়ের সবার। আমি বিশ্বাস করি, শিক্ষকের সবচেয়ে বড় পুরস্কার হলো শিক্ষার্থীর চোখে কৃতজ্ঞতার আলো। যতদিন আছি, শিশুদের মন ও চরিত্র গড়ার কাজে নিজেকে বিলিয়ে দেব।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক কমিটির সভায় তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রেষ্ঠ সহকারী শিক্ষক (পুরুষ) হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বইছে উৎসবের আমেজ। শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক সবার মুখে একটাই কথা আলফাডাঙ্গার গর্ব, শামসের উদ্দিন।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২ জুলাই, ২০২৬
কুষ্টিয়া | ২ জুলাই, ২০২৬
বরিশাল | ২ জুলাই, ২০২৬
বরিশাল | ২ জুলাই, ২০২৬
ফরিদপুর | ২ জুলাই, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।