ফরিদপুরে যৌতুকের বলি স্ত্রী: স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী স্মৃতি আক্তারকে (২২) শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামী শাহীন মীর মালতকে (৩৪) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং তা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে কড়া পুলিশি পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট:
আদালত ও মামলার বিবরণী সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালে ফরিদপুর সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের সাঘা বিশ্বাসের ডাঙ্গী গ্রামের মো. ফারুক মাতুব্বরের মেয়ে স্মৃতি আক্তারের সঙ্গে বিয়ে হয় অম্বিকাপুর ইউনিয়নের আজাহার মণ্ডলের পাড়া গ্রামের শাহীন মীর মালতের। এই দম্পতির একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
বিয়ের পর থেকেই স্বামী শাহীন মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন এবং যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। মেয়ের সুখের কথা ভেবে ২০২১ সালে স্মৃতির পরিবার প্রায় এক লাখ টাকা যৌতুক দেয়। কিন্তু তাতেও লোভ কমেনি শাহীনের। উল্টো আরও তিন লাখ টাকা দাবি করে স্ত্রীর ওপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দেন তিনি।
হত্যার নির্মমতা ও মামলা:
নির্যাতনের এক পর্যায়ে ২০২২ সালের ২৮ জানুয়ারি রাতের কোনো এক সময় স্মৃতি আক্তারকে ঘরের ভেতর শ্বাসরোধে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এরপর ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরদেহ ঘরের চৌকিতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় আসামিরা।
পরদিন স্থানীয়দের কাছে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফারুক মাতুব্বর বাদী হয়ে ওই বছরের ৩১ জানুয়ারি ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ৩০ এপ্রিল কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস স্বামী শাহীন মীর মালতকে একমাত্র অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রতিক্রিয়া:
আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী। তিনি বলেন, “আদালতের এই রায়ে আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট। আমরা বিশ্বাস করি, এই রায়ের মাধ্যমে যৌতুকের মতো ঘৃণ্য অপরাধের বিরুদ্ধে সমাজে একটি শক্ত ও সতর্কতামূলক বার্তা পৌঁছাবে।”
What's Your Reaction?
জেলা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ