দলীয় পদ হারাতে পারেন বিএনপির মন্ত্রী-এমপিরা

অনলাইন ডেস্কঃ
May 18, 2026 - 13:45
দলীয় পদ হারাতে পারেন বিএনপির মন্ত্রী-এমপিরা

দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে সরকার এবং দলের কার্যক্রমে সুস্পষ্ট ভারসাম্য বজায় রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর দলটির অনেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা একাধারে মন্ত্রী-এমপি এবং দলের শীর্ষ পদে আসীন রয়েছেন। এই দ্বৈত ভূমিকার কারণে সরকার ও দলের কাজে যাতে কোনো স্থবিরতা না আসে, সেজন্য ‘এক নেতার এক পদ’ নীতি কার্যকর করতে যাচ্ছে বিএনপির হাইকমান্ড। এর ফলে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের দলের জেলা, মহানগর বা থানার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো ছাড়তে হতে পারে। 

মূল লক্ষ্য: নতুন নেতৃত্বের বিকাশ ও প্রশাসনিক গতিশীলতা
বিএনপির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, একই ব্যক্তি দল এবং সরকার—উভয় জায়গায় দায়িত্ব পালন করলে কোনো কাজই সঠিকভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয় না। মন্ত্রী ও এমপিরা যদি দলীয় পদ ছেড়ে শুধু প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কাজে মনোযোগ দেন, তবে সরকারের কাজের গতিশীলতা বাড়বে। একই সঙ্গে দলের শীর্ষ পদগুলো শূন্য হলে নতুন ও তৃণমূলের যোগ্য নেতাদের উঠে আসার পথ সুগম হবে। আসন্ন সপ্তম জাতীয় কাউন্সিলে এই নীতির শতভাগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা রয়েছে। 

জিয়াউর রহমানের আদর্শের পথে তারেক রহমান
দলের নেতারা জানিয়েছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্র ও দল পরিচালনায় তার বাবা, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মডেল অনুসরণ করছেন। জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন সরকার ও দল আলাদা হওয়া উচিত। তার সময়ে মন্ত্রী-এমপিরা দলের সাংগঠনিক পদে থাকতেন না। দলের কাজের জন্য সেসময় প্রথম মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করা হয়েছিল। 

তারেক রহমানও সেই ধারাবাহিকতায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কালচার ফিরিয়ে এনেছেন। জিয়াউর রহমান যেমন জনসমাবেশে মন্ত্রী-এমপিদের দাঁড় করিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি করতেন, তারেক রহমানও সম্প্রতি (৯ মে) একটি মতবিনিময় সভায় মন্ত্রীদের প্রথম ৮০ দিনের কাজের হিসাব দলীয় নেতাকর্মীদের সামনে তুলে ধরার ব্যবস্থা করেছেন।

ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বাস্তবায়ন
দলের এই সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা তাদের দলীয় পদ ছেড়েছেন। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ ছেড়ে পুরোদমে মন্ত্রণালয়ের কাজে মন দিয়েছেন। একইভাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালও তাদের দলীয় পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। 

তবে ঢাকা মহানগর, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন জেলার শীর্ষ পদে থাকা অনেক নেতাই বর্তমানে এমপি বা মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খুব শিগগিরই নতুন কমিটি গঠনের মাধ্যমে তাদের এসব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। 

বিশ্লেষকদের মত
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিএনপির এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী জানান, দল এবং সরকার একাকার হয়ে যাওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি অশনিসংকেত। ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করতে হলে দল ও সরকারের মধ্যে একটি প্রাতিষ্ঠানিক দূরত্ব ও ভারসাম্য থাকা অপরিহার্য। 

বিএনপির সিনিয়র নেতারাও মনে করছেন, সরকারের মাত্র তিন মাস পেরিয়েছে। সামনের দিনগুলোতে ‘সিম্পল লিভিং, হাই থিংকিং’ নীতির ওপর ভিত্তি করে তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভা ও দলীয় কাঠামো আরও সুশৃঙ্খল ও গতিশীল হয়ে উঠবে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow