আতঙ্কিত হবেন না, আসছে ৬০৪ কোটি টাকার টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
Mar 30, 2026 - 15:06
আতঙ্কিত হবেন না, আসছে ৬০৪ কোটি টাকার টিকা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামসহ শিশুদের ছয়টি মারাত্মক রোগের সংক্রমণ মোকাবিলায় ৬০৪ কোটি টাকার টিকা কিনছে সরকার। এই টিকা আমদানির জন্য ইতিমধ্যে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফকে অর্থ প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) দুপুরে সচিবালয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সাথে বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল এই তথ্য জানান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, খুব শিগগিরই হামসহ ছয়টি রোগের টিকা দেশে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, “টিকা আনার জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং দ্রুত আমদানির চেষ্টা চলছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এসব টিকা দেশে চলে আসবে বলে আমরা আশা করছি। টিকা আসার পর দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে।” এ সময় দেশবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে হামসহ বিভিন্ন শিশু রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি হাসপাতালগুলোতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী জানান, শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে আরও ২০টি ভেন্টিলেশন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০১৮ সালের পর দেশে হামের ওপর বড় কোনো ক্যাম্পেইন না হওয়ায় বর্তমানে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাথে বৈঠকের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সংক্রামক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণ, নার্সিং সেবার মানোন্নয়ন এবং আইসিইউ সেবাসহ স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করবে। এ লক্ষ্যে একটি পাঁচ সদস্যের ‘জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে, যার রূপরেখা আগামী মে মাসের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে।

এদিকে, বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচিতে বড় সাফল্য থাকলেও এখনো উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু ঝুঁকির মুখে রয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ। সংস্থাটির তথ্যমতে, দেশে প্রায় ৪ লাখ শিশু নিয়মিত সবকটি টিকা পায়নি এবং প্রায় ৭০ হাজার শিশু একটি টিকাও গ্রহণ করেনি। ইউনিসেফের বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, গ্রামীণ এলাকার তুলনায় শহর অঞ্চলে টিকা না পাওয়া শিশুর হার বেশি। গ্রামাঞ্চলে ৮৫ শতাংশ শিশু সব ডোজ টিকা পেলেও শহরে এই হার মাত্র ৭৯ শতাংশ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালে এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ছয়টি সংক্রামক রোগের টিকা দেওয়ার মাধ্যমে ‘সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি’ (ইপিআই) শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০০৯ সাল থেকে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি আরও বাড়ানো হয় এবং বর্তমানে অনেকগুলো রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষা প্রদান করা হচ্ছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow