এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
গৃহায়ন ও গণপূর্ত অধিদফতরে প্রকৌশলীদের বদলি ও পদায়নে ‘লটারি’ পদ্ধতির আড়ালে ব্যাপক অনিয়ম, গ্রেডিং শিট জালিয়াতি এবং প্রায় ১২০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কর্মকর্তাদের জ্যেষ্ঠতা, সততা, মেধা ও বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) বিবেচনায় না নিয়ে প্রভাব ও অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মস্থলে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়ন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই), সরকারপ্রধান ও উপদেষ্টাদের বাসভবন, সংসদ ভবন এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত দফতরগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সুবিধাভোগী ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তাদের কৌশলে পদায়ন করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা একে রাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন।
লটারির নামে গ্রেডিং শিট জালিয়াতি
জানা গেছে, মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গণপূর্ত অধিদফতরের ৭৬৭ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (সিভিল), ২৫৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলী (ইলেকট্রোমেকানিক্যাল), ২০০ জন সহকারী প্রকৌশলী, ২১৯ জন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং ১২০ জন নির্বাহী প্রকৌশলীসহ প্রায় দেড় হাজার কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি করা হয়।
নির্বাহী প্রকৌশলীদের ‘এ+’, ‘এ’, ‘বি’, ‘সি’ ও ‘ডি’—এই পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে লটারির মাধ্যমে পদায়নের কথা বলা হলেও এর কোনো সুস্পষ্ট লিখিত নীতিমালা বা মূল্যায়ন নথি প্রকাশ করা হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, একাধিক বাক্সে নাম রেখে লটারিকে সূক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে প্রভাবিত করা হয়। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোর জন্য আগেই নির্দিষ্ট কর্মকর্তাদের নাম চূড়ান্ত করে রাখা হয়েছিল। সংস্থাপন শাখার কতিপয় কর্মকর্তা ও সিন্ডিকেটের সহায়তায় লটারির আগেই গ্রেডিং শিটে পরিবর্তন এনে আ ন ম মাজহারুল ইসলাম ও মো. জিয়াউর রহমানের মতো কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দফতরে পদায়ন নিশ্চিত করা হয়।
স্পর্শকাতর স্থাপনায় বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়ন
অভিযোগে প্রকাশ, ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-২-এর অধীনে রয়েছে দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মবিভাগ—প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ এবং ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান জাদুঘর’। অথচ এই বিভাগে সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমুর আত্মীয় ও বুয়েট ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতা প্রকৌশলী মাসুম বিল্লাহকে পদায়ন করা হয়েছে।
এছাড়া, এনএসআই সদরদফতর, দুদক সদরদফতর ও সরকারপ্রধানের বাসভবন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঢাকা মেইনটেন্যান্স বিভাগে পদায়ন পেয়েছেন রেজা তাইমুর মালিক। অভিযোগ রয়েছে, তার বাবা চুয়াডাঙ্গা জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। একইভাবে সংসদ ভবন ও এমপি হোস্টেলের মতো সংবেদনশীল এলাকার দায়িত্বে পদায়ন পেয়েছেন মো. জিয়াউর রহমান। সাবেক গণপূর্তমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাশেদ আহসান ও রাজিবুল ইসলামের মতো কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পদায়ন নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে।
আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্যের অভিযোগ
ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আবু নাসের চৌধুরীর বিরুদ্ধে অতীতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি বহাল তবিয়তে রয়েছেন। সম্প্রতি তাকে গণপূর্ত সার্কেল-১-এর অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাবেক প্রধান প্রকৌশলীর নিকটাত্মীয় পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে ১০ কোটি টাকার বিনিময়ে বর্তমান পদায়ন বাগিয়ে নেন। তিনি ঢাকা গণপূর্ত সার্কেল-২-এর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাক্কলন অনুমোদন, টেন্ডার অনুমোদন ও ভেরিয়েশন পাস করাতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন নিচ্ছেন। এমনকি ই-জিপি টেন্ডারে ৫ শতাংশ কমিশন না দিলে নথি অনুমোদন করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে। ইতিপূর্বে বগুড়া সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ বরাদ্দ ও বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার (এপিপি) কাজে ওটিএম পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
১২০ কোটি টাকার সিন্ডিকেট ও তদন্তের দাবি
অভিযোগ উঠেছে, গণপূর্তের এই ঢালাও বদলি ও পদায়নকে ঘিরে মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের শীর্ষ পর্যায়ের একটি সিন্ডিকেট প্রায় ১২০ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন করেছে। অভিযোগকারীরা বলছেন, কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়া যোগ্য কর্মকর্তাদের বঞ্চিত করে বিতর্কিতদের পদায়ন করা হয়েছে। স্বচ্ছতা ফেরাতে বদলির গ্রেডিং শিট, লটারির তালিকা, মূল্যায়ন কার্যবিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আয়কর নথি ও ব্যাংক হিসাব যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ
রাষ্ট্রীয় স্পর্শকাতর স্থাপনায় বিতর্কিত ও রাজনৈতিক সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের দায়িত্বে রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার।
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সরকারপ্রধানের দফতর, ডিজিএফআই প্রধানের কার্যালয় কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বাসভবন রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব যদি রাজনৈতিক প্রভাবযুক্ত বা অসৎ কর্মকর্তাদের হাতে থাকে, তা সরকারের জন্য মোটেও মঙ্গলজনক নয়; বরং এটি বড় ধরনের নিরাপত্তা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির উদ্দেশ্যে কোনো ষড়যন্ত্র হলে এসব কর্মকর্তা স্পর্শকাতর তথ্য পাচার বা অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করে দিতে পারেন।”
তিনি অবিলম্বে এ ধরনের পদায়নের পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে তা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্পর্শকাতর পদগুলোতে রাজনৈতিক বিতর্কমুক্ত ও পেশাদার কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন।
রংপুর | ৮ অক্টোবর, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
নোয়াখালী | ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
ভারত | ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয় | ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
রাজধানী | ২৭ অক্টোবর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।