দৌলতপুরে অ্যানথ্রাক্সের টিকায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ১৪ ইউনিয়নে নজরদারির দাবি

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ হারুন অর রশীদ
২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:৩০ এএম
শেয়ার করুন:
দৌলতপুরে অ্যানথ্রাক্সের টিকায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ, ১৪ ইউনিয়নে নজরদারির দাবি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় গবাদিপশুর অ্যানথ্রাক্স (তড়কা রোগ) প্রতিরোধী টিকাদান কার্যক্রমকে ঘিরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকা দেওয়ার নামে খামারি ও পশু পালনকারীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে স্থানীয় খামারিদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে টিকাদান কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীরা প্রতিটি গরু বাবদ ২০ থেকে ৫০ টাকা এবং ছাগল বাবদ ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। কোনো প্রকার রসিদ ছাড়াই এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে। খামারিদের প্রশ্ন—টিকার মূল্য, প্রয়োগের পারিশ্রমিক নাকি যাতায়াত ব্যয়—ঠিক কী বাবদ এই অর্থ নেওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট নয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের সেবাতথ্য অনুযায়ী, গবাদিপশুর তড়কা বা অ্যানথ্রাক্স টিকার সরকার নির্ধারিত মূল্য প্রতি ১০০ মাত্রায় মাত্র ৫০ টাকা (অর্থাৎ মাত্রা প্রতি ৫০ পয়সা)। অথচ দৌলতপুরে পশুপ্রতি আদায় করা হচ্ছে এর বহুগুণ বেশি।

এ বিষয়ে দৌলতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রোকনুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারি নিয়মে গবাদিপশুর ক্ষেত্রে নামমাত্র ফি (গরুপ্রতি প্রায় ৮০ পয়সা ও ছাগলপ্রতি ৩০ পয়সা) প্রযোজ্য। পশুপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা আদায় করার কোনো যৌক্তিকতা কিংবা প্রশাসনিক অনুমোদন নেই। তবে দপ্তরে চরম জনবলসংকট থাকায় গ্রামপর্যায়ের মাঠকর্মী ও স্থানীয় পশু চিকিৎসকদের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জনবলসংকটের কারণে বিকল্প কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাদের নিয়োগপ্রক্রিয়া, পারিশ্রমিকের কাঠামো এবং অর্থ আদায়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো লিখিত নীতিমালা বা তদারকি নেই। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে প্রতিদিন শত শত গবাদিপশুকে টিকা দেওয়া হচ্ছে। গড়ে যদি প্রতিটি পশুর জন্য ২০ থেকে ৩০ টাকাও আদায় করা হয়, তবে মাস শেষে খামারিদের পকেট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে, যার কোনো সরকারি হিসাব নেই।

অ্যানথ্রাক্স একটি মারাত্মক সংক্রামক রোগ, যা মানুষ ও গবাদিপশু উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ। এ রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিতর্কে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অনেক সাধারণ খামারি ক্ষুব্ধ হয়ে পশুকে টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

দৌলতপুরের খামারি ও সচেতন মহলের দাবি, অ্যানথ্রাক্স টিকাদান কর্মসূচিতে অবিলম্বে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে হবে। প্রতিটি ইউনিয়নে টিকার সরকারি মূল্য এবং সেবামূল্য সংক্রান্ত সুস্পষ্ট নির্দেশনা ঝুলিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে টিকাদান কার্যক্রমে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।