আলফাডাঙ্গায় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা: মেয়র প্রার্থী বিল্লাল হুসাইনের অর্থায়নে পুরস্কৃত ৭৫ হাফেজ

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:২২ এএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা: মেয়র প্রার্থী বিল্লাল হুসাইনের অর্থায়নে পুরস্কৃত ৭৫ হাফেজ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৩১তম হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতা। দিনব্যাপী এ আয়োজনে নিজস্ব অর্থায়নে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে মোট ৭৫ জন বিজয়ী শিক্ষার্থীর হাতে আকর্ষণীয় পুরস্কার তুলে দিয়েছেন আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মুন্সী বিল্লাল হুসাইন। প্রতিযোগিতার বিভিন্ন পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সহস্রাধিক ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজনটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আলফাডাঙ্গা মডেল মসজিদের সভাকক্ষে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে হুফ্ফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ-এর উপজেলা শাখা। 

আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতাটি মোট পাঁচটি বিভাগে বিভক্ত ছিল—৫ পারা, ১০ পারা, ২০ পারা, পূর্ণ ৩০ পারা এবং ১০ বছর বয়সী অনুর্ধ্ব হাফেজ। দিনব্যাপী বিচারকদের চুলচেরা বিশ্লেষণ শেষে প্রতিটি বিভাগের সেরা কৃতীদের নির্বাচিত করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। বিজয়ীদের জন্য এসব পুরস্কারের সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করেন তরুণ সমাজসেবক মুন্সী বিল্লাল হুসাইন।

হুফ্ফাজুল কুরআন ফাউন্ডেশনের আলফাডাঙ্গা উপজেলা শাখার সভাপতি হাফেজ ক্বারী ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ফরিদপুর জেলা শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা মাহমুদুল হাসান ফায়েক। বিশেষ অতিথি ছিলেন আলফাডাঙ্গা উপজেলা কওমি মাদ্রাসার উপদেষ্টা মাওলানা তামিম আহমেদ মিলন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মুফতি আশিকুর রহমান।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে মেয়র প্রার্থী মুন্সী বিল্লাল হুসাইন শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা ও চারিত্রিক আদর্শে বলীয়ান হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের প্রকৃত সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে সমাজের কল্যাণে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দুর্নীতিমুক্ত থাকার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। তবেই দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা অর্জন সম্ভব।”

মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “একটি ধবধবে সাদা কাপড়ে সামান্য একটু দাগ লাগলে আমরা অনেক সময় পুরো কাপড়টিকেই দোষারোপ করি, অথচ কাপড়ের বাকি শুভ্র অংশটির দিকে তাকাই না। মানুষের ক্ষেত্রেও এটি সত্য; কারও একটিমাত্র ভুলের কারণে তাঁর সব ভালো দিক মুছে ফেলা অনুচিত। আমাদের উচিত মানুষের ক্ষুদ্র ভুলত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখে তাঁর ইতিবাচক কাজগুলোকে মূল্যায়ন করা।”

আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পবিত্র কুরআনের আলো সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেওয়া, হাফেজদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং নতুন প্রজন্মকে কুরআন শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এমন প্রশংসনীয় উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দ্বীনি ও নৈতিক শিক্ষায় আরও আগ্রহী করে তুলবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।