ব্রুনাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী ইলিয়াসের মৃত্যু: আগৈলঝাড়ায় শোকের মাতম

মোঃ মনিরুজ্জামান, অগৈলঝরা প্রতিনিধি, বরিশালঃ
১ নভেম্বর, ২০২৬ ১১:২১ এএম
শেয়ার করুন:
ব্রুনাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রবাসী ইলিয়াসের মৃত্যু: আগৈলঝাড়ায় শোকের মাতম

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ ব্রুনাইয়ে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইলিয়াস মোল্লা (৩৬) নামের এক বাংলাদেশি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার ব্রুনাই শহরের একটি ব্যস্ত সড়কে পথচারী হিসেবে রাস্তা পারাপারের সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কার তাকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। 

নিহত ইলিয়াস মোল্লা বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের পূর্ব গোয়াইল গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নান মোল্লার ছোট ছেলে। শুক্রবার দুপুরে গ্রামের বাড়িতে তার মৃত্যুর খবর পৌঁছালে পরিবারসহ পুরো এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ধারদেনা করে ‘ফ্রি ভিসায়’ ব্রুনাই পাড়ি জমান ইলিয়াস। দেশে রেখে যান বৃদ্ধ মা সামিরুন বেগম (৬৫), স্ত্রী নাদিরা আক্তার (২৭) এবং দুই শিশুপুত্র নাদিম মোল্লা (১০) ও মোস্তাকিন মোল্লাকে (৭)। ব্রুনাই শহরে শ্রমিকের কাজ করে প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা দেশে পাঠাতেন তিনি। সেই উপার্জনে ঋণের কিস্তি পরিশোধের পাশাপাশি টেনেটুনে চলত পরিবারের ভরণপোষণ। শুক্রবার জুমার নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে রাস্তা পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি।

শনিবার সকালে পূর্ব গোয়াইল গ্রামে নিহত ইলিয়াসের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় সেখানকার বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। প্রতিবেশী ও দূর-দূরান্তের আত্মীয়রা ভিড় করছেন শোকস্তব্ধ পরিবারটিকে সান্ত্বনা দিতে। 

শোকে মুহ্যমান বৃদ্ধ মা সামিরুন বেগম বিলাপ করতে করতে বলেন, “ইলিয়াস চলে যাওয়ায় আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেল। এখন আমাদের সংসার কীভাবে চলবে? এতিম নাতিদের পড়াশোনার কী হবে?”

নিহতের বড় ভাই খোকন মোল্লা অশ্রুসজল কণ্ঠে বলেন, “অনেক ধারদেনা করে ভাইকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম যাতে পরিবারের অভাব দূর হয়। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! এখন ভাইয়ের মরদেহটি দেশে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্যও আমাদের নেই।”

স্বামীর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন স্ত্রী নাদিরা আক্তার। জ্ঞান ফিরতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, “স্বামীর মরদেহটি যেন শেষবারের মতো দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, সেজন্য সরকারের কাছে হাতজোড় করে আকুতি জানাচ্ছি।”

বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বড় ছেলে নাদিম মোল্লা ডুকরে কেঁদে বলে, “বৃহস্পতিবার রাতেও আব্বু ফোন দিয়ে আমার পড়াশোনা আর খাওয়া-দাওয়ার খোঁজ নিয়েছিল। এখন আমাকে ফোন করে খোঁজ নেওয়ার মতো আর কেউ রইল না।”

অসহায় ও নিঃস্ব পরিবারটি ইলিয়াসের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে ব্রুনাইয়ের বাংলাদেশ হাইকমিশন এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।