রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

অনলাইন ডেস্কঃ
৪ জুন, ২০২৬ ৩:০৮ পিএম
শেয়ার করুন:
রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ৭ জুন

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার মামলার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী রোববার (৭ জুন) এই আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করা হবে। 

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন) ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে আসামিদের উপস্থিতিতে এই যুক্তিতর্ক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু আদালতে আসামি সোহেল রানার ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পড়ে শোনান। প্রথমবারের মতো এই জবানবন্দি প্রকাশ্যে আদালতে পড়ে শোনানো হলো।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘাতক সোহেল রানা জানায়, সে ওই বাসার তৃতীয় তলায় ভাড়া থাকত এবং নিয়মিত মাদক সেবন করত। ঘটনার দিন পাশের বাসার শিশু রামিসা বাইরে এলে সে তাকে ডেকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। এরপর জোরপূর্বক বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করলে রামিসা চিৎকার করে ওঠে। তখন মুখে ওড়না পেঁচিয়ে তাকে ধর্ষণ করে সোহেল। একপর্যায়ে শিশুটি অচেতন হয়ে পড়লে সে মারা গেছে ভেবে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে ছুরি এনে রামিসার মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন করে। এরপর হাত কেটে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করার সময় বাইরে রামিসার মায়ের খোঁজাখুঁজি ও দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনে সে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। পরে সেলাইরেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আজ যুক্তিতর্ক শুনানির শুরুতে কাঠগড়ায় তোলার আগে অসুস্থ বোধ করায় সোহেল রানার স্ত্রী ও মামলার অন্যতম আসামি স্বপ্না আক্তারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে স্বপ্নাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেলেও তার স্বামী ঘাতক সোহেল রানা ছিল সম্পূর্ণ নির্বিকার। 

এর আগে গত ১৯ মে পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলাটিতে গত মঙ্গলবার রামিসার বাবা-মা, প্রতিবেশী ও তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ মোট ১৬ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। আজ উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আগামী ৭ জুন দিন ধার্য করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।