কবরের ওপর বাথরুম, কবরস্থানের জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি: ক্ষোভে ফুঁসছে ফরিদপুরের দুই গ্রামের মানুষ

অনলাইন ডেস্কঃ
৪ জুন, ২০২৬ ৩:৪৮ পিএম
শেয়ার করুন:
কবরের ওপর বাথরুম, কবরস্থানের জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি: ক্ষোভে ফুঁসছে ফরিদপুরের দুই গ্রামের মানুষ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত একটি সামাজিক কবরস্থানের জমি গোপনে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, কবরস্থানের একটি অংশে বাথরুম নির্মাণ করে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ঘটনাও ঘটেছে। এ নিয়ে উপজেলার কাইচাইল ইউনিয়নের পাঁচকাইচাইল ও মাঝিকান্দা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, পাঁচকাইচাইল ও মাঝিকান্দা গ্রামের মানুষের দাফনের জন্য প্রায় ২৮ বছর আগে এই কবরস্থানটি নির্ধারিত করা হয়েছিল। দীর্ঘ এই সময়ে সেখানে দুই গ্রামের প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন মৃত মানুষের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে সম্প্রতি সারোয়ার মাতুব্বর নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি কবরস্থানের ওই জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, জমি নিজের দাবি করেই ক্ষান্ত হননি সারোয়ার মাতুব্বর; কবরস্থানের একটি অংশে বাথরুম নির্মাণ করা হয়েছে এবং সেখানে নিয়মিত ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। মৃত মানুষের শেষ আশ্রয়স্থলের ওপর এমন কর্মকাণ্ডকে সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী আখ্যা দিয়ে এর দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সারোয়ার মাতুব্বর বলেন, "আমি জমির প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে অনেক আগেই মৌখিকভাবে জমিটি কিনেছিলাম। তবে প্রায় এক মাস আগে জমিটি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে দলিল করেছি। এখন গ্রামবাসী আমার কাছে জমিটি ফেরত চাচ্ছে।" তবে দীর্ঘদিন ধরে কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত জমি এত বছর পর কেন নিজের নামে রেজিস্ট্রি করলেন—এ বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং কবরস্থানের জমি উদ্ধারে উদ্যোগ নিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ প্রশাসন। গত বুধবার কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান এবং নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদের উদ্যোগে বিষয়টির সমাধান এবং জমি উদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কাইচাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তফা খান বলেন, "গ্রামের মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আমরা বিষয়টির একটি শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সমাধানের চেষ্টা করছি। কবরস্থানের জমি উদ্ধার এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।"

নগরকান্দা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, "কবরস্থানের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনো অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে সবাইকে শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি।"

বর্তমানে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। দ্রুত কবরস্থানের জমিটি দখলমুক্ত করে তা পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।