এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রক্তের গ্রুপ নির্ধারণে ভুল রিপোর্ট প্রদানের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ভুলের কারণে এক প্রসূতি নারীর জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছিল বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীর পরিবার। গত বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সরেজমিনে অনুসন্ধান ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার দক্ষিণ কাজিরহাট হাজীপাড়া এলাকার মো. মোতালেব হোসেনের স্ত্রী মোছা. রোকেয়া বেগম তাঁর তৃতীয় সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। অস্ত্রোপচারের পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাঁর রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে হাসপাতাল থেকে রোগীকে ‘ও নেগেটিভ (O-)’ রক্তধারী উল্লেখ করে রিপোর্ট দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে প্রসূতিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে সেখানে পুনরায় তাঁর রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করা হয়। নতুন পরীক্ষায় আগের রিপোর্টের সঙ্গে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। বিভ্রান্তি এড়াতে পরবর্তীতে আরেকটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করা হলে রোগীর প্রকৃত রক্তের গ্রুপ ‘এ নেগেটিভ (A-)’ শনাক্ত হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দেওয়া ভুল রিপোর্টের কারণে সঠিক রক্ত সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় অপচয় হয়। এতে প্রসূতির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং তিনি চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েন। তবে শেষ পর্যন্ত সঠিক গ্রুপের রক্ত সংগ্রহ করে সফলভাবে তাঁর সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগীর স্বামী মো. মোতালেব হোসেন বলেন, “জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চরম অবহেলার কারণে আমার স্ত্রীর জীবন মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছিল। সময়মতো ভুল ধরা না পড়লে হয়তো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেত। আমি এই দায়িত্বহীনতার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্যাথলজি বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ভুল আর না ঘটে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নন্দা সেনগুপ্ত বিষয়টি সম্পর্কে বলেন, “এটি একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীকে ইতোমধ্যে সতর্ক করা হয়েছে, যেন ভবিষ্যতে এই ধরণের সংবেদনশীল কাজে আর কোনো ভুল না হয়।”
অন্যদিকে নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. আব্দুর রাজ্জাক জানান, “বিষয়টি সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পেলে ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
রক্তের গ্রুপের মতো একটি অতি সংবেদনশীল বিষয়ে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুলের ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রের স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে এবং ঘটনার একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
বাংলাদেশ | ৪ জুন, ২০২৬
ঢাকা | ৪ জুন, ২০২৬
নওগাঁ | ৪ জুন, ২০২৬
আইন আদালত | ৪ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।