স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে: প্রধানমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৫ এএম
শেয়ার করুন:
স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে: প্রধানমন্ত্রী

৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অনুপস্থিত একটি ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোকে ঐক্য বজায় রেখে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ফ্যাসিস্ট সরকার পতন আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও নৈশভোজ সভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

শরিকদের সঙ্গে ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান
যুগপৎ আন্দোলনের শরিক নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "আমরা অতীতে একসঙ্গে ছিলাম, বর্তমানেও আছি এবং ভবিষ্যতেও একসঙ্গেই থাকব। আপনাদের ছেড়ে যাওয়ার কোনো যুক্তি নেই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যেতে হবে।" 

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জনগণের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ধৈর্যের বিকল্প নেই। কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও তা যেন দলগুলোর মধ্যে বিভেদের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।

'গুপ্তবাহিনী' প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য
একটি রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা যখন রাজপথে কঠোর আন্দোলনে ছিলাম, তখন তাদের দেখা যায়নি। অথচ আজ অনেকেই সেই আন্দোলনের দাবিদার হতে চাইছে। নাম উল্লেখ না করলেও 'গুপ্ত' শব্দটি ব্যবহার করলেই মানুষ তাদের চিনে নেয়।" 

তিনি আরও বলেন, "ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় আমরা তাদের অনেক খুঁজেছি, কিন্তু কোথাও পাইনি। অথচ ৫ আগস্ট স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর এই গুপ্তবাহিনী ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করছে। দেশের মানুষের আস্থা ধরে রাখতে হলে এদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।"

৩১ দফা সংস্কার ও সমসাময়িক পরিস্থিতি
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা কর্মসূচি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারী শাসনের সময় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোই জনগণের সামনে এই সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেছিল। দেশের মানুষ ৩১ দফার পক্ষেই রায় দিয়েছে এবং এটি এখন জনগণের নিজস্ব কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। তাই এর সফল বাস্তবায়নে সমমনা রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।

দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, "আমরা যখন দায়িত্ব নিই, তখন দেশের অর্থনীতি, জ্বালানি, বিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসহ প্রতিটি খাত ছিল বিপর্যস্ত। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকার মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শতভাগ সফলতা না এলেও জনগণ কিছুটা স্বস্তি পেতে শুরু করেছে।"

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ
সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী যমুনায় পৌঁছে শরিক দলের নেতাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং পরে নৈশভোজে অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। 

সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন—
মোস্তফা জামাল হায়দার (চেয়ারম্যান, জাতীয় পার্টি-কাজী জাফর)
মাহমুদুর রহমান মান্না (সভাপতি, নাগরিক ঐক্য)
সাইফুল হক (সাধারণ সম্পাদক, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি)
মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম (নেতা, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম)

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ যুগপৎ আন্দোলনের শরিক বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।