মাঝ আকাশে রেডিও-রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, যুক্তরাষ্ট্রে বিমান নিখোঁজ

অনলাইন ডেস্কঃ
৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১:১৫ পিএম
শেয়ার করুন:
মাঝ আকাশে রেডিও-রাডার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, যুক্তরাষ্ট্রে বিমান নিখোঁজ

মাঝ আকাশে আকস্মিকভাবে রেডিও ও রাডার—উভয় ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস উপকূলে একটি মেডিকেল ফ্লাইট (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটিতে রোগী ও ক্রুসহ মোট ছয়জন আরোহী ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে উড়োজাহাজটি প্রায় ২৪ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচে নেমে আসে এবং বৈমানিক জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছিলেন।

সংবাদমাধ্যম বিবিসির বরাতে জানা যায়, স্থানীয় সময় শনিবার ভোররাতে বারমুডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল বিমানটি। নিখোঁজ ছয় আরোহীর সন্ধানে বর্তমানে আকাশ ও সমুদ্রপথে যৌথ উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) জানিয়েছে, ‘গালফস্ট্রিম জি-১০০’ মডেলের বিমানটির সঙ্গে স্থানীয় সময় রাত ১টার পরপরই হঠাৎ সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপরই মার্কিন কোস্টগার্ডের নর্থইস্ট ডিস্ট্রিক্ট ম্যাসাচুসেটসের নানটাকেট দ্বীপের উপকূলে ব্যাপক তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের (FlightAware) তথ্যমতে, স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৪০ মিনিটে বিমানটি বারমুডার এলএফ ওয়েড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাত ১টা ৩০ মিনিটে এটি বোস্টনের লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল।

বিমানটি আন্তর্জাতিক মেডিকেল সেবা প্রদানকারী সংস্থা ‘ল্যাটিটিউড এয়ার অ্যাম্বুলেন্সেস’-এর অন্তর্ভুক্ত। সংস্থাটির ফ্লাইট অপারেশনস ডিরেক্টর ক্ল্যারেন্স টোগেরেটজ নিশ্চিত করেছেন, বিমানটিতে দুজন বৈমানিক ও দুজন চিকিৎসাকর্মী ছিলেন, যাঁদের সবাই কানাডার নাগরিক। এছাড়া বারমুডা থেকে উন্নত চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আনা একজন রোগী এবং তাঁর একজন স্বজনও বিমানে অবস্থান করছিলেন। 

ফ্লাইটঅ্যাওয়ারের ট্র্যাকিং ডেটা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিখোঁজ হওয়ার পূর্বে বিমানটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক গতিতে প্রায় ৭ হাজার ৩০০ মিটার (২৪ হাজার ফুট) উচ্চতা থেকে হঠাৎ নেমে ৩ হাজার ৩০০ মিটারে (১১ হাজার ফুট) চলে আসে।

বোস্টন গ্লোবের প্রতিবেদনে লাইভএটিসি ডটনেট-এর রেডিও যোগাযোগের সূত্র তুলে ধরে বলা হয়, শেষ মুহূর্তে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারের (এটিসি) সঙ্গে পাইলটের যোগাযোগে চরম বিঘ্ন ঘটছিল। পাইলটের সংকেত অত্যন্ত দুর্বল থাকায় তিনি জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করছেন কি না, তা নিয়ে এটিসির তরফ থেকে বারবার নিশ্চিত হতে চাওয়া হয়। পরবর্তীতে বৈমানিক জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।

এর পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ডিসপ্যাচার উদ্ধারকারী দলগুলোকে জরুরি প্রস্তুতির নির্দেশ দেন। তিনি জানান, বিমানটিতে মারাত্মক ‘বৈদ্যুতিক বিভ্রাট’ দেখা দিয়েছে। এর কিছুক্ষণ পরেই বিমানটির রেডিও এবং রাডার—দুটো সংযোগই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

বর্তমানে মার্কিন কোস্টগার্ড সমুদ্রের বিশাল এলাকা জুড়ে নিখোঁজদের খোঁজে জোর তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।