গভীর রাতে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৩; হেনস্তার শিকার দুই সাংবাদিক

মেহেদী হাসান ইমন, নোবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ
১৮ আগস্ট, ২০২৬ ৪:১৯ পিএম
শেয়ার করুন:
গভীর রাতে নোবিপ্রবি ছাত্রদলের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ৩; হেনস্তার শিকার দুই সাংবাদিক

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) আবাসিক হলের সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এক সমন্বয়ক ও এক ছাত্রদল নেতাসহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ক্যাম্পাসে কর্মরত দুই সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

সোমবার গভীর রাত থেকে মঙ্গলবার প্রথম প্রহর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন হল/আব্দুল মালেক উকিল হল ও পার্শ্ববর্তী ‘পকেট গেট’ এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন—শাখা ছাত্রদলের ছাত্রকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান সিফাত (পরিসংখ্যান বিভাগ, ১৮তম ব্যাচ), বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসান (ফলিত গণিত বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ) এবং কৃষি বিভাগের শিক্ষার্থী সামিউল ইসলাম (১৯তম ব্যাচ)। আহত সামিউলকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:
প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত আনুমানিক দুইটার দিকে হলের একটি কক্ষের সিট অদলবদল (এক্সচেঞ্জ) নিয়ে ছাত্রদলের কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে রাত তিনটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান ও সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেনের অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাব্বির হাসানের অনুসারী আনিসুর রহমান সিফাতের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ ওঠে। 

হামলাকারীরা সিফাতকে মারধর করে হল থেকে বের করে দিলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেটের দিকে চলে যান। পরে পকেট গেট এলাকায় শিক্ষার্থী সামিউল ইসলামের ওপর ফের হামলা চালানো হয়, এতে তাঁর ঠোঁট ফেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। অন্যদিকে, হলের ভেতর মারধরের ঘটনা থামাতে গেলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জাহিদুল ইসলাম হাসানকে মারধর করা হয়। একই সময় ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন সাংবাদিককে হেনস্তা ও লাঞ্ছিত করে হামলাকারী পক্ষের নেতাকর্মীরা।

নেতাকর্মীদের বক্তব্য:
মারধরের শিকার ছাত্রদল নেতা আনিসুর রহমান সিফাত অভিযোগ করে বলেন, "সিট নিয়ে সামান্য বাকবিতণ্ডার জেরে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা আমার ওপর সুপরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে এবং মারধর করে হল থেকে বের করে দিয়েছে। বিশেষ করে ফিশারিজের রায়হান কবির রাশেদ ও ইকোনমিক্সের তানভীর ভূঁইয়া এতে সরাসরি অংশ নেয়।" তিনি আরও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "যারা কিছুদিন আগেও ছাত্রলীগ করেছে, তারা এখন ছাত্রদলের বড় নেতা বনে গেছে। ছাত্রদলে এমন অনুপ্রবেশকারী ও ছাত্রলীগের স্টাইলে পেশিশক্তির রাজনীতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।"

ঘটনার বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাব্বির হাসান বলেন, "সিট সংক্রান্ত জটিলতার বিষয়টি রাতেই সমাধান করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে পরিকল্পিতভাবে ছাত্রদলের একজন দায়িত্বশীল নেতার ওপর হামলা করা হয়, যা সুস্পষ্টভাবে সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গ। আমরা ইতিমধ্যে বিষয়টি কেন্দ্রীয় সংসদকে জানিয়েছি এবং এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।"

অভিযোগ প্রসঙ্গে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হোসেন বলেন, "বিষয়টি রাজনৈতিক কোনো বিরোধ নয়, যতটুকু জেনেছি এটি সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ ভুল বোঝাবুঝি। পুরো ঘটনাটি খোঁজ নিয়ে পরে বিস্তারিত বলতে পারব।" এদিকে ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর সাড়া পাওয়া যায়নি।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য:
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আ ফ ম আরিফুর রহমান বলেন, "আমরা বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত রয়েছি। হলের প্রভোস্ট বডি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার ও আনসার সদস্যদের সতর্ক রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় প্রক্টরিয়াল বডির সভা ডাকা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।