দিল্লিতে ত্রিমুখী আন্দোলন, চাপে মোদি সরকার

অনলাইন ডেস্কঃ
২১ জুলাই, ২০২৬ ১:৫৯ পিএম
শেয়ার করুন:
দিল্লিতে ত্রিমুখী আন্দোলন, চাপে মোদি সরকার

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি এখন ত্রিমুখী আন্দোলনে উত্তাল। একদিকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, অন্যদিকে প্রস্তাবিত ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে কৃষকদের পদযাত্রা এবং জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি—সব মিলিয়ে চরম প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীরা

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছে যুব ও শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। তাদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গত সোমবার (২০ জুলাই) দিল্লির রাজপথ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সংসদ ভবন অভিমুখে আন্দোলনকারীদের পদযাত্রা রুখতে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করলে তীব্র সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে অন্তত ১১৮ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মী এবং ৬০ জন শিক্ষার্থীসহ প্রায় ১৮০ জন আহত হন।

পুলিশি পদক্ষেপ ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি থেকে একচুলও নড়তে রাজি নন। আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোরের দিকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যেও দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হন প্রায় দেড় শতাধিক বিক্ষোভকারী। আগের দিন পুলিশি অভিযানে ভেঙে যাওয়া তাঁবু ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসবাবপত্র কুড়িয়ে নিয়ে তারা পুনরায় সেখানে অবস্থান গেড়েছেন। দিল্লি পুলিশ সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে ৭০ জন আন্দোলনকারীকে আটক করেছে। তবে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

ভারত-মার্কিন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে কৃষকদের প্রতিরোধ

এদিকে, প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে কৃষকদের সংগঠন ‘দেশ বাঁচাও মোর্চা’। আজ দিল্লির কিষাণ ঘাটে ‘কিসান মহাপঞ্চায়েত’ কর্মসূচিতে যোগ দিতে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকে হাজার হাজার কৃষক দিল্লির উদ্দেশে রওনা হন। তবে কৃষকদের এই যাত্রা ঠেকাতে পুলিশ শম্ভু সীমান্তে ঘাগ্গর নদীর ওপর ব্রিজের মুখে শক্ত ব্যারিকেড দিয়ে পথ বন্ধ করে দেয়।

কৃষক নেতা সারওয়ান সিং পান্ধের অভিযোগ করে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দিল্লির সমাবেশে যোগ দিতে বাধা দেওয়ার জন্যই সরকার এই সীমান্ত অবরোধ তৈরি করেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তিটি কার্যকর হলে বিদেশ থেকে অত্যন্ত কম মূল্যে কৃষিপণ্য ও দুগ্ধজাত সামগ্রী দেশের বাজারে প্রবেশ করবে, যা স্থানীয় প্রান্তিক চাষী ও ক্ষুদ্র খামারিদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে। কৃষকদের স্পষ্ট দাবি—চুক্তির খসড়া জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে এবং কৃষকদের মতামত ছাড়া কোনো ধরনের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করা যাবে না।

কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ও ৩৭০ ধারা পুনর্বহালের দাবি

দিল্লির এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্ত হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা এবং বিশেষ সাংবিধানিক ধারা পুনর্বহালের জোরালো দাবি। যন্তর মন্তরে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় অংশ নিয়ে শ্রীনগরের ন্যাশনাল কনফারেন্সের সংসদ সদস্য আগা সৈয়দ রুহুল্লাহ মেহেদি কাশ্মীরের জনগণের সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।

তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করা হয়েছিল। এই ধারা পুনর্বহাল করা ছাড়া কাশ্মীরের মানুষের অধিকার আদায়ের কোনো সংগ্রামই পূর্ণতা পাবে না। তিনি স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দেন, কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি এই বিশেষ ধারা পুনর্বহালের দাবির সাথে নিবিড়ভাবে জড়িত।

চাপে কেন্দ্রীয় সরকার

শিক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ, সীমান্তে কৃষকদের ব্যারিকেড এবং জম্মু-কাশ্মীরের সাংবিধানিক অধিকারের লড়াই—এই তিনটি ভিন্নধর্মী অথচ তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এই মুহূর্তে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।