নওগাঁয় ৪ খুনের বীভৎস বর্ণনা ডিনারের পর যমদূত সেজে হত্যা করলো ভাগ্নেরা
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের দুই ভাগ্নে ও দুলাভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনায় জানা যায়,একই পাতে বসে মামার সঙ্গে রাতের খাবার খেল দুই ভাগ্নে। ডিনার শেষে বিদায় নিয়ে বেরিয়েও গেল স্বাভাবিকভাবে তারা। কিন্তু তার কিছুক্ষণ পরেই যমদূত হয়ে ফিরে এসে মামা-মামিসহ দুই শিশুকে জবাই করে মেটাল জমির লালসা।
নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় এমন লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে পুলিশ।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। এ ঘটনায় নিহতের দুই ভাগ্নে সবুজ ও শাহীন এবং দুলাভাই শহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের একমাত্র ছেলে হাবিবুর রহমানের সঙ্গে তার বোনদের জমির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। মূলত এই বিরোধের চিরস্থায়ী সমাধান করতেই হাবিবুরকে ‘নির্বংশ’ করার পরিকল্পনা করা হয়।
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার রাতে হাবিবুরের বাড়িতেই তার সঙ্গে রাতের খাবার খান দুই ভাগ্নে সবুজ ও শাহীন। সেখান থেকে বেরিয়ে পাশের একটি খোলা মাঠে গিয়ে দুলাভাই শহিদুলসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে খুনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করেন তারা। রাত একটার দিকে তারা কৌশলে আবার বাড়িতে ঢোকেন। ঘরে ঢুকে প্রথমে মামা হাবিবুর রহমানকে ঝাপটে ধরে জবাই করেন দুই ভাগ্নে।
ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে মামি পপি আক্তার ঘর থেকে বেরিয়ে এলে তাকেও বাড়ির আঙিনায় ধরে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সবশেষে হত্যার কোনো সাক্ষী না রাখতে এবং জমির উত্তরাধিকার নিশ্চিহ্ন করতে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা ৯ বছরের পারভেজ ও ৩ বছরের শিশু সাদিয়াকেও জবাই করে পালিয়ে যান তারা।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। হাবিবুরের বংশে বাতি দেওয়ার মতো কেউ যেন না থাকে, সেই উদ্দেশ্যেই ছোট শিশুদেরও রেহাই দেয়নি ঘাতকেরা। আমরা তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি।’
উল্লেখ্য, গত সোমবার দিবাগত রাতে নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহত পপি আক্তারের বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।
What's Your Reaction?
আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ