লালমনিরহাট সীমান্তে পুশইন ব্যর্থ, ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ জুন, ২০২৬ ১:০২ পিএম
শেয়ার করুন:
লালমনিরহাট সীমান্তে পুশইন ব্যর্থ, ৩৩ জনকে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ

লালমনিরহাটের তিনটি সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অন্তত ৩৩ জন নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় গ্রামবাসীদের প্রতিরোধের মুখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ওই ব্যক্তিদের নিজেদের ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। 

বিজিবি সূত্র জানায়, শুক্রবার (৫ জুন) ভোরে লালমনিরহাটের তিনটি ভিন্ন সীমান্ত এলাকায় সন্দেহভাজন কিছু মানুষের উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এর মধ্যে তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) বড়খাতা সীমান্তে ১১ জন, পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তে ১০ জন এবং আদিতমারী উপজেলার দিঘলটারী-দুর্গাপুর সীমান্তে ১২ জন অবস্থান করছিলেন।

অনুপ্রবেশের বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই বিজিবি সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে কৌশলগত অবস্থান নেয় এবং তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। বিজিবির অনড় অবস্থানের কারণে দিনভর চেষ্টা করেও ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেননি।

ধাপে ধাপে ফিরিয়ে নিল বিএসএফ
সীমান্তে দিনভর উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকালের মধ্যে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়। 

বড়খাতা সীমান্ত: শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা বিওপির আওতাধীন বুড়া সারডুবি সীমান্তের ৮৮৬ নম্বর মেইন পিলার এলাকায় অবস্থানরত ১১ জনকে ভারতের ১৫৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা কাঁটাতারের ভেতরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। 
দুর্গাপুর সীমান্ত: একই রাতে আদিতমারী উপজেলার দুর্গাপুর সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১২ জনকেও সার্চলাইট বন্ধ করে ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয় বিএসএফ।
পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্ত: সর্বশেষ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে পাটগ্রামের পঁয়ষট্টিবাড়ী সীমান্তের ৮৪৬/১-এস মেইন পিলার এলাকায় অবস্থানরত বাকি ১০ জনকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। ভারতের ৯৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা সীমান্ত গেট খুলে তাদের কাঁটাতারের ভেতরে নিয়ে একটি পিকআপ ভ্যানে করে চলে যায়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও সতর্ক অবস্থানে বিজিবি
১৫ বিজিবির মিডিয়া সেল জানিয়েছে, পুশইনের জন্য নিয়ে আসা সব ব্যক্তিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ফিরিয়ে নেওয়ার পর বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ রুখতে সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও টহল কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বিজিবি।

রংপুর সেক্টর সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান জানান, বৈধ দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তে কাঁটাতারবিহীন এলাকা ও গেট ব্যবহার করে বাংলাদেশে মানুষ ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পারস্পরিক সমঝোতার পরিপন্থি। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

উল্লেখ্য, সীমান্তে বিএসএফের এ ধরনের একতরফা পুশইনের চেষ্টা প্রায়ই মানবিক বিপর্যয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে বৈধ পরিচয়পত্র থাকার পরও সন্দেহবশত সাধারণ মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বিএসএফের বিরুদ্ধে, যা ভুক্তভোগীদের চরম পরিচয় সংকটে ফেলে দেয়।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।