এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশকে পূর্বের মতো ইসলামি নিয়ম-নীতি ও সৎ লোক দিয়ে পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “এস আলমের কোনো লোককে ইসলামী ব্যাংক কোনোভাবেই আশ্রয় দিতে পারবে না।”
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
এ দিন সংসদ অধিবেশনে ইসলামী ব্যাংকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানসহ পাঁচজন সদস্য বক্তব্য দেন। অন্যদিকে সরকারি দল থেকে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর আমাদের প্রত্যাশা ছিল বর্তমান সরকার বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে উল্টো ব্যাংকিং খাতের ভেতরে বিতর্কিত ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বসানো হচ্ছে।”
ইসলামী ব্যাংকের প্রতিষ্ঠা ও গৌরবময় ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে এই জামায়াত নেতা বলেন, “ইসলামী ব্যাংক আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে উঠেছিল। এতে আইডিবি (ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক), কুয়েত ফাইন্যান্স ব্যাংক, আল রাজি ব্যাংক এবং দেশের কতিপয় ইসলামপ্রিয় মানুষের অর্থায়ন ছিল। অতীতে এই ব্যাংক সম্পূর্ণ যোগ্যতা ও সততার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে এবং এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ ছিল না।”
তিনি ব্যাংকের সাম্প্রতিক শীর্ষ পর্যায়ের পরিবর্তনের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “সাবেক চেয়ারম্যান এম জুবায়দুর রহমান ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুকের যোগ্য নেতৃত্বে ইসলামী ব্যাংক ধীরে ধীরে সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক ধারায় ফিরছিল। গ্রাহকদের আস্থা ফিরতে শুরু করায় নতুন করে প্রায় ২৬ হাজার কোটি টাকার আমানতও জমা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ কী কারণে চেয়ারম্যান পরিবর্তন এবং এমডিকে পদত্যাগে বাধ্য করা হলো, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা সরকারকে দিতে হবে।” ব্যাংকটির স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে অবিলম্বে জুবায়দুর রহমান ও ওমর ফারুককে স্বপদে পুনর্বহাল করে আগের ব্যবস্থাপনা কাঠামো ফিরিয়ে আনার দাবি জানান তিনি।
এস আলম গ্রুপের আগ্রাসন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, “ডিজিএফআইকে ব্যবহার করে জোরপূর্বক অন্য শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে ইসলামী ব্যাংকের ৮২ শতাংশ শেয়ারের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছিল এস আলম গ্রুপ। এখন প্রকৃত শেয়ারধারীদের অধিকার ও মালিকানা কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি।”
ব্যাংকটির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানের সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, “যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে, তাকে ইসলামী ব্যাংকের মতো স্পর্শকাতর একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। সততা ও দক্ষতাই ছিল এই ব্যাংকের শক্তির মূল ভিত্তি। সেখানে বিতর্কিত ব্যক্তিকে বসানো হলে গ্রাহকদের মনে উদ্বেগ সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।”
সবশেষে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় যদি পুনরায় এস আলম-সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ফিরিয়ে আনা হয়, তবে গ্রাহক আস্থায় বড় ধস নামবে। অবিলম্বে এই উদ্বেগ দূর করা না হলে রাজপথে আন্দোলনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতকে নতুন সংকটের দিকে ঠেলে দেবে।
পিরোজপুর | ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
পিরোজপুর | ২৬ এপ্রিল, ২০২৫
কুষ্টিয়া | ৪ জুন, ২০২৪
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
মাদারীপুর | ১০ জুন, ২০২৬
ক্রিকেট | ১০ জুন, ২০২৬
ফুটবল | ১০ জুন, ২০২৬
বিনোদন | ১০ জুন, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।