সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০-১২ গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
May 27, 2026 - 18:04
May 27, 2026 - 18:04
সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০-১২ গ্রামে ঈদুল আজহা উদযাপন

সারাদেশে আগামীকাল বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হলেও, ফরিদপুরের বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার ১০ থেকে ১২টি গ্রামের বাসিন্দারা আজ বুধবার (২৭ মে) ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আজ সকাল থেকেই এসব গ্রামের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ঈদের নামাজ আদায় ও পশু কোরবানির মাধ্যমে ঈদ উদযাপন করছেন।

দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধর্মীয় রীতির ধারাবাহিকতায় বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রূপাপাত ইউনিয়ন এবং আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার কয়েকটি গ্রামের মানুষ একদিন আগে রোজা রাখা ও দুই ঈদ উদযাপন করে আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা মূলত চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফের অনুসারী। তারা দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের চান্দ্র মাস হিসাব করে এবং তাদের সঙ্গে মিল রেখে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে আসছেন।

আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে উন্মুক্ত মাঠের পরিবর্তে বোয়ালমারী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী সহস্রাইল দায়রা শরীফ মসজিদের ভেতরে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজে ইমামতি করেন ধলাইরচর দরবার শরীফের পীর সাহেব মুফতি মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান। 

নামাজ শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের জন্য দায়রা শরীফে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। এরপর ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা নিজ নিজ বাড়িতে পশু কোরবানি দেন।

এবারের ঈদ জামাতে কাটাগড়, সহস্রাইল, দরি সহস্রাইল, মাইটকুমরা, রাখালতলি, গঙ্গানন্দপুর ও ধলাইরচরসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের মুসল্লিরা অংশ নেন।

নামাজ শেষে ধলাইরচর দরবার শরীফের পীর সাহেব মুফতি মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান বলেন, "ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের আত্মত্যাগ ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়। সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আমরা বহু বছর ধরে এই ধর্মীয় রীতি পালন করে আসছি। আজকের এই দিনে আমি সবাইকে আহ্বান জানাব, আমরা যেন নিজেদের মধ্যকার হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে মানবতার কল্যাণে কাজ করি। আল্লাহ আমাদের কোরবানি কবুল করুন এবং দেশে শান্তি বজায় রাখুন।"

আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বোয়ালমারীর কাটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহিদুল হক বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের মানুষ সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। বোয়ালমারী ও মধুখালীর পাশাপাশি আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলাইরচর গ্রামের মানুষও এই জামাতে অংশ নেন। এবারও অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।"

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, "ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে ছিল। শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।"

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম রকিবুল হাসান বলেন, "স্থানীয় বাসিন্দাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির প্রতি সম্মান জানিয়ে তারা যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।"

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই অঞ্চলে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের এই প্রথা বহু বছরের পুরোনো। নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঐতিহ্যকে লালন করেই তারা প্রতি বছর এভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে ঈদ পালন করে থাকেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow