চামড়া সংগ্রহ থেকে উদ্যোক্তা: মাদ্রাসাকে স্বনির্ভর করার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ
প্রতি বছর পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের চামড়া শিল্পের একটি বিশাল অংশ আসে মাদ্রাসাগুলো থেকে। দেশের মোট চামড়ার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সংগ্রহ করেন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কষ্টার্জিত এই চামড়া নামমাত্র মূল্যে (৫০০-৬০০ টাকায়) পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়, যা মাদ্রাসার জন্য এক প্রকার আর্থিক লোকসান। এই প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে গিয়ে মাদ্রাসাকে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করতে একটি উদ্ভাবনী ‘বিজনেস মডেল’ সামনে এনেছেন মিশরের আল আজহার ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ অ্যান্ড এরাবিক বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ আজহারী।
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ আজহারীর মতে, যে চামড়া মাত্র ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে, সেই চামড়া দিয়ে তৈরি একটি মানিব্যাগ বাজারে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকায় বিক্রি হয়। এই বিশাল মুনাফার ব্যবধানকে কাজে লাগিয়ে মাদ্রাসার আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
বিজনেস মডেলের মূল পরিকল্পনা:
আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ আজহারী তার গবেষণাধর্মী লেখায় এই প্রক্রিয়ার একটি সহজ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেছেন:
প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াজাতকরণ: চামড়া সরাসরি কম দামে বিক্রি না করে চুক্তিভিত্তিক ট্যানারির মাধ্যমে তা প্রসেস বা প্রক্রিয়াজাত করে নিতে হবে।
পণ্য উৎপাদন: মাদ্রাসার নিজস্ব টিম বা দক্ষ কারিগর নিয়োগের মাধ্যমে সেই চামড়া ব্যবহার করে মানিব্যাগ, জুতা, বেল্ট বা নিত্যপ্রয়োজনীয় চামড়াজাত পণ্য তৈরি করতে হবে।
বিপণন: উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বাজারে বা নিজস্ব ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে বিক্রি করলে মাদ্রাসার তহবিলে কয়েক গুণ বেশি অর্থ জমা হবে।
সম্ভাবনা ও লক্ষ্য:
বাংলাদেশে প্রতি বছর কোরবানি হওয়া প্রায় এক কোটি পশুর চামড়া একটি বিশাল কাঁচামালের উৎস। এই বিপুল বাজারকে কাজে লাগিয়ে কাঁচামাল থেকে সরাসরি পণ্য উৎপাদন করতে পারলে একটি মাদ্রাসা মাত্র এক মৌসুমের আয় দিয়েই বছরজুড়ে নিজেদের খরচ মেটাতে সক্ষম হবে।
এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য কেবল মাদ্রাসার আর্থিক উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মানসিকতায় পরিবর্তন আনা। আব্দুল্লাহ্ আল মাহমুদ আজহারী বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের ‘কামলা খাটার’ বা কেবল অনুদানের ওপর নির্ভরশীল থাকার মানসিকতা বদলে তাদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা। এই মডেল বাস্তবায়ন করতে পারলে মাদ্রাসাগুলো শতভাগ আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জন করবে এবং দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
শিক্ষার্থীদের হাতে কলমে ব্যবসার এই প্রশিক্ষণ মাদ্রাসার শিক্ষার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও স্বনির্ভরতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ