দৌলতপুরে শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি: মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন

দৌলতপুর প্রতিনিধিঃ মোঃ হারুন অর রশীদ
১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ৫:০৯ পিএম
শেয়ার করুন:
দৌলতপুরে শারদীয় দুর্গোৎসবের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি: মহাষষ্ঠীতে দেবীর বোধন

সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহোৎসবে মেতে উঠেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা। দেবী দুর্গাকে মর্ত্যলোকে বরণ করে নিতে প্রতিটি পূজামণ্ডপে এখন চলছে শেষ মুহূর্তের কর্মব্যস্ততা। কোথাও প্রতিমায় পড়ছে শেষ তুলির আঁচড়, কোথাও চলছে দৃষ্টিনন্দন প্যান্ডেল ও আলোকসজ্জার কাজ, আবার কোথাও দেবীকে অলংকারে সাজাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগররা। সব মিলিয়ে উপজেলাজুড়ে এখন শুধুই আনন্দ, উদ্দীপনা আর উৎসবের আমেজ।

আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) মহাষষ্ঠী তিথিতে দেবী দুর্গার বোধন ও অধিবাসের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সূচনা হচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী এই শারদীয় দুর্গোৎসবের। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, বোধনের মাধ্যমেই দেবীকে মর্ত্যে আহ্বান জানিয়ে জাগ্রত করা হয়। এরপর মহাসপ্তমী, মহাষ্টমী, মহানবমী পেরিয়ে বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই মহোৎসবের।

দৌলতপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, পুরোদমে চলছে সাজসজ্জার কাজ। প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় অপরূপ রূপ পেয়েছে দেবী দুর্গা এবং লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশের প্রতিমা। দীর্ঘদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম শেষে প্রতিমার চূড়ান্ত রূপ দিতে শেষ মুহূর্তে দিন-রাত এক করে কাজ করছেন মৃৎশিল্পীরা। দর্শনার্থীদের নজর কাড়তে মণ্ডপের তোরণ, প্রবেশপথ ও প্যান্ডেলে আনা হয়েছে নান্দনিক বৈচিত্র্য।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি অশুভ ও অন্ধকারের বিরুদ্ধে শুভ এবং সত্যের বিজয়ের চিরন্তন প্রতীক। তাই উৎসবকে ঘিরে ঘরে ঘরে চলছে আনন্দ ভাগাভাগির প্রস্তুতি। ধর্মীয় পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর দেবীর মর্ত্যে আগমন ঘটেছে দোলায় (পালকি) এবং প্রস্থান হবে গজে (হাতি)।

পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, এবারের দুর্গোৎসবকে আনন্দময় ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। মণ্ডপগুলোর অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থাপনায় কাজ করছেন আয়োজকরা।

এদিকে উৎসবকে নির্বিঘ্ন, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। প্রতিটি মণ্ডপে দর্শনার্থীদের নির্বিঘ্নে চলাচলের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সজাগ রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে দৌলতপুরের শারদীয় দুর্গোৎসব সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে। ঢাকের বাদ্য আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে পুরো জনপদ।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।