২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ: মধ্যরাতেই সাগরে ছুটছেন পিরোজপুরের জেলেরা

মোঃ নাজমুল হোসেন, জেলা প্রতিনিধি, পিরোজপুরঃ
২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৯:০৯ পিএম
শেয়ার করুন:
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ: মধ্যরাতেই সাগরে ছুটছেন পিরোজপুরের জেলেরা

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) মধ্যরাত থেকেই সাগরে মাছ শিকারে নামছেন পিরোজপুরের উপকূলীয় জেলেরা। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবরে দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে পিরোজপুরের জেলেপল্লীগুলোতে এখন কর্মচাঞ্চল্য ও উৎসবমুখর পরিবেশ ফিরে এসেছে। 

সরেজমিনে পিরোজপুরের জিয়ানগরের পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায় উৎসবমুখর এক দৃশ্য। ঘাটে নোঙর করা অর্ধশতাধিক ফিশিং ট্রলারে চলছে সাগরে যাওয়ার শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। গভীর সাগরে প্রতিটি ট্রলারকে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ দিন অবস্থান করতে হয়; তাই ট্রলারগুলোতে তোলা হচ্ছে জাল, জ্বালানি তেল, রান্নার প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও বরফ। এসব ট্রলারে করে প্রায় তিন শতাধিক জেলে গভীর বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে যাত্রা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আছেন।

স্থানীয় জেলেরা জানান, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নির্দেশ মেনে গত ৮ অক্টোবর থেকে ট্রলার ও জাল নিয়ে তীরে ফিরে আসেন তারা। নিষেধাজ্ঞার এই দীর্ঘ সময়ে কেউ জাল বুনেছেন, আবার কেউ ট্রলারের ইঞ্জিন ও বডি মেরামত করেছেন। মাছ ধরাই যাদের একমাত্র জীবিকা, সেই দিনগুলোতে অনেকটা অলস ও টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে সময় কাটাতে হয়েছে তাদের। তদুপরি, নিষেধাজ্ঞার ঠিক আগে বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে আশানুরূপ মাছ না পাওয়ায় অনেকেই বড় ধরনের আর্থিক লোকসানে পড়েছিলেন। এবার বুকভরা আশা নিয়ে সাগরে যাচ্ছেন সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশায়। 

এদিকে, পাড়েরহাট মৎস্যবন্দরের একাধিক ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ী জানান, দীর্ঘদিন পর একযোগে সব ট্রলার সাগরে নামার প্রস্তুতি নেওয়ায় বন্দরে বরফের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বন্দরে মাত্র দুটি বরফকল থাকায় জেলেদের আগাম সিরিয়াল দিয়ে বরফ সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। 

পাড়েরহাট মৎস্যজীবী সমিতির সহ-সভাপতি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “প্রশাসনের কঠোর নজরদারির কারণে এবার অবৈধভাবে মা ইলিশ শিকার প্রায় বন্ধ ছিল। জেলেরা সরকারি আইন মেনে চলায় এবার সাগরে ইলিশের উৎপাদন অতীতের চেয়ে অনেক বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।”

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ রহমান বলেন, “৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতে নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। একই সাথে নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে কর্মহীন জেলেদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, জিয়ানগর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত প্রায় ২ হাজার ৮০০ জন জেলের মাঝে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে মোট ৭০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। আজ মধ্যরাতে নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ামাত্রই জেলেরা আইনসম্মতভাবে সাগর ও নদীতে মাছ শিকার করতে পারবেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।