এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
সরাসরি আপনার ইনবক্সে সর্বশেষ খবর, আপডেট এবং বিশেষ অফার পেতে আমাদের গ্রাহক তালিকায় যোগ দিন
ঘোড়ার ক্ষুরের খটখট শব্দ, ধুলো উড়িয়ে ক্ষিপ্রগতির ছুটে চলা আর হাজারো দর্শকের বাঁধভাঙা উল্লাস—সব মিলিয়ে গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া এক চিরচেনা রূপ ফিরে পেয়েছিল ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা। গ্রামীণ জনপদের মানুষকে নির্মল আনন্দ দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে দূরে রাখার প্রত্যয়ে এখানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামীণ মেলা। রোমাঞ্চকর এ আয়োজন উপভোগ করতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসেন নানা বয়সী হাজারো মানুষ।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার বানা ইউনিয়নের রুদ্রবানা এলাকার একটি উন্মুক্ত মাঠে স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ও রুদ্রবানা গ্রামের বাসিন্দা হাদী জিয়াউর রহমান এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবর শেখের সার্বিক সহযোগিতায় এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
ঘোড়দৌড়কে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোরেরা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে পুরো মাঠ দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বাছাইকৃত ২৬টি তেজি ও ক্ষিপ্রগতির ঘোড়া অংশ নেয়। মাঠের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘোড়াগুলোর ছুটে চলার দৃশ্য দর্শকদের মাঝে তুমুল উন্মাদনা সৃষ্টি করে। করতালি আর হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো প্রান্তর।
প্রতিযোগিতাকে ঘিরে মাঠের চারপাশ রূপ নেয় এক জমজমাট গ্রামীণ মেলায়। মিষ্টি, চটপটি, ফুচকা ও নানা মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানিরা। পাশাপাশি শিশুদের খেলনা ও গৃহস্থালি পণ্যের দোকানেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। গ্রামীণ এই আয়োজন যেন পরিবার-পরিজন নিয়ে একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার এক চমৎকার মিলনমেলায় পরিণত হয়।
আয়োজক হাদী জিয়াউর রহমান বলেন, “একসময় ঘোড়দৌড় ছিল গ্রামবাংলার অন্যতম প্রধান লোকজ বিনোদন। তবে কালের বিবর্তনে আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে এ ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে আমাদের শিকড় ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরা এবং যুবসমাজকে মোবাইল আসক্তি ও মাদকের অন্ধকার থেকে খেলার মাঠে ফিরিয়ে আনাই ছিল আমাদের মূল উদ্দেশ্য।”
অনুষ্ঠানে বানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শরীফ হারুন অর রশিদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সমাজ থেকে অবক্ষয় দূর করতে এবং সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করতে এমন লোকজ উৎসবের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাঁরা প্রতি বছর নিয়মিতভাবে এই মেলা ও প্রতিযোগিতার আয়োজন অব্যাহত রাখার দাবি জানান।
নোয়াখালী | ১৬ মার্চ, ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ | ১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ২১ অক্টোবর, ২০২৫
ফরিদপুর | ১৯ মে, ২০২৫
নওগাঁ | ২০ জুলাই, ২০২৫
ফরিদপুর | ৩ নভেম্বর, ২০২৬
রাজধানী | ৩ নভেম্বর, ২০২৬
ফরিদপুর | ৩ নভেম্বর, ২০২৬
নোয়াখালী | ৩ নভেম্বর, ২০২৬
ফরিদপুর | ৩ নভেম্বর, ২০২৬
এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।