রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে জামায়াত- প্রার্থী চূড়ান্ত হবে আজ

অনলাইন ডেস্কঃ
৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:০৮ পিএম
শেয়ার করুন:
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেবে জামায়াত- প্রার্থী চূড়ান্ত হবে আজ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। তবে দলের কিংবা জোটের পক্ষ থেকে কে প্রার্থী হবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আজ চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম নির্ধারণ করা হবে। 

শনিবার রাতে জামায়াতের আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠকে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার এই নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়।

আজ রোববার (৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকেই প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে। 

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদের জন্য সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াতের নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকেও কাউকে প্রস্তাব করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় আসন সংখ্যার বিচারে বিরোধী জোটের প্রার্থী জয়ী হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা কম। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০টি আসনের মধ্যে বিএনপি ২১১টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। অন্যদিকে, জামায়াত ও তার মিত্র জোট পায় ৬৮টি আসন। তবে পরাজয়ের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখা এবং রাজনৈতিক নজির সৃষ্টি করতেই মূলত এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জামায়াত।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, "রাষ্ট্রপতি পদে দলের মনোনয়ন কে পাবেন তা এখনো চূড়ান্ত নয়। জোট শরিকদের সঙ্গে আলোচনার পরই একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।"

উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর একমাত্র বিরোধী দল হিসেবে তৎকালীন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রপতি পদে বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরীকে প্রার্থী করেছিল। তবে সে নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হন। এরপর থেকে প্রতিটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। জামায়াতের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে আবারো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হলো।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।