জকসু নির্বাচন– স্ট্যাটাস ঘিরে আলোচনায় জিএস প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দীর্ঘদিন কারাবন্দী থাকা শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা। ফেসবুকে দেওয়া তাঁর এক স্ট্যাটাস ঘিরে মঙ্গলবার দিনভর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নিজের স্ট্যাটাসে কুবরা লেখেন, রাজনীতিতে আসার আগে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এক মাসের মধ্যেই তাঁকে উদ্দেশ্য করে অপপ্রচার, চরিত্রহননসহ নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
তিনি লিখেছেন, “এসেছিলাম পরিবর্তন করতে। কিন্তু এই নোংরামির পরিবেশ দেখে বুঝতে পারছি কেন অনেক মেয়ে রাজনীতিতে আসতে চায় না। অনলাইনে ফেক আইডি, স্লাট শেমিং, বট আইডি দিয়ে আক্রমণ—এসব না হয় সহ্য করলাম। কিন্তু সাংবাদিক পরিচয়ে ফোন করে মিথ্যা অপবাদ আর মানসিক চাপ—এটা আর সহ্য হয় না।”
কুবরা অভিযোগ করেন, কিছু সাংবাদিক ফোনে প্রশ্ন করতে না পেরে পাশ থেকে অন্য আরেকজনের নির্দেশে কথা বলছেন। তিনি সাংবাদিকদের নিরপেক্ষ ও পেশাদার থাকার আহ্বান জানান।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেছেন, “১৫ মাস কারাগারে থেকেও এত মানসিক বিপর্যয়ে পড়িনি, যতটা এখন পড়ছি। আমি কাউকে কোনো দিন কষ্ট দেইনি। আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে নিয়ে নোংরামি বন্ধ করুন।” তিনি এর সঙ্গে আরও যোগ করেন, “এসব লোকদের ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কেউ কি নেই?”
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নূর নবী দীর্ঘদিন ধরে অস্থি ক্যানসার ‘অস্টিওসারকোমা’তে ভুগছেন। তাঁর চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহে সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে একটি চ্যারিটি কনসার্টের আয়োজন করা হয়।
কনসার্টের মঞ্চে উপস্থিত হয়ে খাদিজাতুল কুবরা জানান, তিনি নূর নবীর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছেন। এ ঘোষণার পরই নির্বাচন কমিশনের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে। কারণ, অনুমতিপত্রে স্পষ্ট বলা ছিল—মঞ্চে কোনো প্রার্থী উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
এই ঘটনাকে ঘিরেই কুবরাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে, যেগুলোরই তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ