এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং সাবেক এমডিকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে ফরিদপুরে ইসলামী ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন করেছে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে শত শত ক্ষুব্ধ ও সচেতন গ্রাহক অংশ নেন।
আন্দোলনকারী গ্রাহকদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়টি তাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মানববন্ধনে তারা নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সদ্য অপসারিত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুককে অবিলম্বে স্বপদে বহালের জোর দাবি জানান। উল্লেখ্য, গত সোমবার এক জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহকবান্ধব কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এমডি ওমর ফারুককে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া গ্রাহকরা বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইসলামী ব্যাংক অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে সুদমুক্ত ব্যাংকিং সেবা দিয়ে দেশের মানুষের আমানত সংরক্ষণ করে আসছে। কিন্তু বিগত স্বৈরাচারী সরকার ব্যাংকটিকে ধ্বংসের সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এর নিয়ন্ত্রণ এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেয়। গ্রাহকদের অভিযোগ, এস আলম গ্রুপ ব্যাংকের বিপুল অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে, যার ফলে ব্যাংকটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছিল।
বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা আরও জানান, মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া ব্যাংকটিকে আবারও ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ারই একটি অপচেষ্টা। তবে সাধারণ মানুষ এবং আমানতকারীরা এই ব্যাংককে আর কোনোভাবেই লুণ্ঠনকারীদের হাতে ছেড়ে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
এ সময় বক্তারা বলেন, প্রবাসীদের আস্থার প্রতীক এই ব্যাংক রেমিট্যান্সের মাধ্যমে আবারও সচল হয়ে উঠবে। তারা সকল আমানতকারীর প্রতি আহ্বান জানান, সবাই যেন তাদের আমানত ইসলামী ব্যাংকে গচ্ছিত রেখে ব্যাংকটিকে তার হৃতগৌরব ও পূর্বের অবস্থানে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করেন।
প্রসঙ্গত, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম জুবায়দুর রহমান পদত্যাগ করেন। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের পর থেকেই মূলত ব্যাংকের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের একটি বড় অংশের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।