এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২১ ও ২২ জুন মালয়েশিয়া সফরের মাধ্যমে তার এই কূটনৈতিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে এ সফর অনুষ্ঠিত হবে।
সফরের মূল এজেন্ডা ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক:
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই হবে তারেক রহমানের প্রথম সরকারি বিদেশ সফর। সফরে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি তিনি মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির আলোকে এই সফরে প্রবাসী কল্যাণ, রেমিট্যান্স বৃদ্ধি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ককে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনায় শ্রমবাজারের সংকট নিরসন, কর্মীদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ, হালাল ফুড সার্টিফিকেশন এবং মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) গুরুত্ব পাবে। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ায় প্রায় ৯ লাখের বেশি বাংলাদেশি কর্মী কর্মরত রয়েছেন, যা দেশটির মোট বিদেশি শ্রমিকের প্রায় ৩৭ শতাংশ। এছাড়া আম রপ্তানি এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হবে।
ভারত নাকি চীন—পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?
মালয়েশিয়া সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী অন্য একটি দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে সেটি ভারত হবে নাকি চীন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। চীন ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে ২৩ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের সঙ্গেও সম্পর্কের টানাপোড়েন কাটিয়ে পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক গড়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সাম্প্রতিক ভারত সফরের সময় থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়টি আলোচনায় ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ভারত বা চীনে প্রধানমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশের বৈদেশিক নীতিতে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের বার্তা বহন করবে।
বিএনপি সরকারের বৈদেশিক নীতি ও চ্যালেঞ্জ:
নতুন সরকার ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ দর্শনের ভিত্তিতে বাস্তববাদী ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে জোর দিচ্ছে। ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানসহ মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সমান্তরাল সম্পর্ক বজায় রাখাই সরকারের লক্ষ্য। তবে ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই ভারসাম্য বজায় রাখা এবং চীনের ঋণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এছাড়া, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও আইনের শাসন সমুন্নত রেখে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনের ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন ও বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ।