ব্রাজিলকে বিদায় করে নরওয়ের ইতিহাস

অনলাইন ডেস্কঃ
৬ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩৫ এএম
শেয়ার করুন:
ব্রাজিলকে বিদায় করে নরওয়ের ইতিহাস

নরওয়ের বিপক্ষে আগের চার ম্যাচের কোনোটিতেই জয়ের মুখ দেখেনি ব্রাজিল। সেই অস্বস্তিকর ইতিহাস বদলানোর লক্ষ্য নিয়ে আজ মাঠে নেমেছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। তবে আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আর এই ঐতিহাসিক জয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল নরওয়ে।

বিশ্ব ফুটবলে এমন প্রতিপক্ষ খুব কমই আছে যাদের বিপক্ষে কখনো জয়ের স্বাদ পায়নি ব্রাজিল। তবে নরওয়ে সেদিক থেকে এক ব্যতিক্রমী নাম। বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর মঞ্চে একক নৈপুণ্যে সেলেসাওদের বিদায় করে নিজেদের অপরাজেয় থাকার রেকর্ড আরও দীর্ঘ করলেন নরওয়েজিয়ান তারকা হালান্ড। 

পাশাপাশি এই ম্যাচ ঘিরে সেলেসাওদের সামনে ছিল দীর্ঘদিনের ‘ইউরোপীয় জুজু’ কাটানোর চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপের সর্বশেষ পাঁচটি আসরেই ইউরোপের কোনো না কোনো দেশের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিল লাতিন আমেরিকার দলটি। এবারও আনচেলত্তির অধীনে থাকা ব্রাজিল সেই গেরো থেকে বের হতে পারেনি। ষষ্ঠবারের মতো ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের কাছে হেরে তাদের সেই হতাশাজনক ধারা অব্যাহত রইল।

নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই নরওয়ে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী ফুটবল উপহার দেয়। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটের মাথায় ব্রাজিলের জালে বল পাঠিয়েছিলেন প্যাট্রিক বার্গ, তবে অফসাইডের কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। তবে শুরুর সেই ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল।

ম্যাচের ১১ মিনিটে ভিএআর (VAR)-এর সহায়তায় পেনাল্টি পায় সেলেসাওরা। মাথিয়াস কুনিয়াকে ডি-বক্সে ফাউল করা হলে রেফারি প্রথমে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও পরে রিপ্লে দেখে পেনাল্টির বাঁশি বাজান। কিন্তু সেই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ব্রুনো গিমারেস। তার নেওয়া দুর্বল পেনাল্টি শটটি চমৎকার দক্ষতায় রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড।

এরপর থেকে ম্যাচের গতিপথ পুরোপুরি বদলে যায়। আক্রমণ ও প্রতি-আক্রমণে জমে ওঠা ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধেও ছিল টানটান উত্তেজনা। আক্রমণের ধার বাড়াতে কার্লো আনচেলত্তি তরুণ ফরোয়ার্ড এনদ্রিককে মাঠে নামান। মাঠে নেমেই ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের পাস থেকে গোল করার এক দারুণ সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি, তবে গোলরক্ষক নিল্যান্ডকে পরাস্ত করতে পারেননি। তার সেই সেভটিই পরবর্তীতে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে।

এরপর আক্রমণের ধার বাড়াতে নেইমারকেও মাঠে নামায় ব্রাজিল। তবে গোলের দেখা মিলছিল না। উল্টো ৭৯ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বাঁ দিক দিয়ে আন্দ্রেয়াস শেলদেরুপের নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে নরওয়েকে এগিয়ে নেন আর্লিং হালান্ড (১-০)।

পিছিয়ে পড়ে গোল শোধে মরিয়া হয়ে অলআউট আক্রমণে ঝাঁপিয়ে পড়ে ব্রাজিল। এনদ্রিকের একটি ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে ক্রিস্টোফার আজের নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দিচ্ছিলেন, তবে গোলরক্ষক নিল্যান্ডের অসাধারণ সেভের পর বল পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এরপর কাসেমিরোও একটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। 

ব্রাজিল যখন সমতায় ফিরতে মরিয়া, ঠিক তখনই ৯০ মিনিটে ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি করে ব্রাজিলের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন হালান্ড। ডি-বক্সের বাইরে থেকে তার নেওয়া এক শক্তিশালী বাঁ পায়ের শট ব্রাজিলের গোলরক্ষক আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে জালে জড়ায় (২-০)। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা সাতে নিয়ে গেলেন এই স্ট্রাইকার। গোল্ডেন বুটের দৌড়ে তিনি এখন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও লিওনেল মেসির সমকক্ষ হয়ে উঠেছেন।

যোগ করা সময়ে কিছুটা আশার আলো দেখেছিল ব্রাজিল। কাসেমিরোকে বক্সের ভেতর ফাউল করা হলে দ্বিতীয়বারের মতো পেনাল্টি পায় তারা। এবার স্পটকিক থেকে গোল করতে ভুল করেননি নেইমার। তার গোলে ব্যবধান ২-১ হলেও তা কেবল সান্ত্বনাই দিতে পেরেছে। বিশ্বকাপ মঞ্চে হয়তো এটাই নেইমারের ক্যারিয়ারের শেষ গোল হয়ে থাকবে। 

রেফারির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠে নরওয়ের ফুটবলার ও সমর্থকেরা। ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড ধরে রাখার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার নতুন ইতিহাস গড়ল নরওয়ে। অন্যদিকে, হেক্সা তথা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে আসা ব্রাজিলের বিশ্বকাপ মিশন আরও একবার অশ্রুসিক্ত নয়নে শেষ হলো।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।