নগরকান্দায় যৌতুক ও পরকীয়ার জেরে গৃহবধূকে নির্যাতন, আদালতের দ্বারে ভুক্তভোগী পরিবার
ফরিদপুরের নগরকান্দায় যৌতুকের দাবিতে চৈতি আক্তার নামে এক গৃহবধূকে অমানুষিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী পবিত্র সর্দারের বিরুদ্ধে। নির্যাতন ও পরকীয়ার বিচার চেয়ে এখন আদালতের আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ময়ন্দা আহোতজোর গ্রামের পবিত্র সর্দারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি ইউনিয়নের ফুলসুতি গ্রামের চৈতি আক্তারের। বিয়ের পর শুরুর দিকে সংসার ভালো চললেও কিছুদিন যেতে না যেতেই যৌতুকের দাবিতে চৈতির ওপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বামী পবিত্র সর্দার অন্য এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চৈতির ওপর নির্যাতনের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। পরকীয়ার প্রতিবাদ করলেই চলত অকথ্য নির্যাতন। এমনকি তাকে হত্যার চেষ্টাও করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একপর্যায়ে নির্যাতন সইতে না পেরে এবং স্বামীর বাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে চৈতি বর্তমানে তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।
চৈতির মা অঞ্জনা সাহা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, "অত্যন্ত অসহায় অবস্থার মধ্যে মানুষের সহযোগিতায় অনেক কষ্ট করে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু পাষণ্ড স্বামী যৌতুকের জন্য আমার মেয়ের জীবনটা নষ্ট করে দিল। বর্তমানে মেয়েকে নিয়ে আমি অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি এর বিচার চাই।"
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পবিত্র সর্দারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়, যার ফলে তার কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধূর পরিবার এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং অভিযুক্ত পবিত্র সর্দারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
What's Your Reaction?
অনলাইন ডেস্কঃ