নগরকান্দায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার সড়ক কাজে ব্যাপক অনিয়ম: কাদাবালু ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
May 15, 2026 - 18:06
নগরকান্দায় ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার সড়ক কাজে ব্যাপক অনিয়ম: কাদাবালু ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার কাওয়াখোলা স্কুল সংলগ্ন সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে নিয়মবহির্ভূতভাবে নদীর কাদাবালু ও পুরোনো ইটের খোয়া ব্যবহারের ফলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

প্রকল্পের বিবরণ:
এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, বিআরআরআইপি (BRRIP) প্রকল্পের আওতায় কাওয়াখোলা স্কুল হতে ২৬২৭-৪১২৭ চেইনইজ পর্যন্ত মোট ১৫০০ মিটার সড়ক কার্পেটিং করা হচ্ছে। ১ কোটি ৪০ লাখ ৮১ হাজার টাকা চুক্তিমূল্যের এই কাজটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোহাম্মদ আলী’। প্রকল্পের নকশা ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী নওসাদ হাসান ফরিদী।

অনিয়মের চিত্র:
সিডিউল অনুযায়ী সড়কে ৬ ইঞ্চি বালু, ৬ ইঞ্চি সাব-বেস, ৬ ইঞ্চি মেকাডাম এবং ২৫ মিলিমিটার কার্পেটিং করার কথা। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, সবক্ষেত্রেই নিয়মের তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। 

সরেজমিনে ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, পাশের নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে তা সরাসরি সড়কে ফেলা হচ্ছে। এই বালু অত্যন্ত কাদাযুক্ত হওয়ায় সড়কের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ছে। এছাড়া ড্র্রেজিংয়ের ফলে নদীর তলদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। পাশাপাশি সড়কে নতুন সামগ্রীর পরিবর্তে পুরোনো ও ময়লাযুক্ত ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে এবং রোলার দিয়ে যথাযথভাবে চাপ (Compaction) না দিয়েই তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারের বক্তব্য:
কাজের তদারকি কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী নওসাদ হাসান ফরিদী অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অদ্ভূত যুক্তি দিয়ে বলেন, "ড্রেজার দিয়ে বালু ভরাট করলে রাস্তা আরও মজবুত হবে। এছাড়া পুরনো ইট ব্যবহার করাও সম্ভব।" 

অন্যদিকে, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী দায় এড়িয়ে বলেন, "রাস্তায় কী ধরনের কাজ হচ্ছে তা সাব-কন্ট্রাক্টরই ভালো বলতে পারবেন। আমি বর্তমানে ঢাকায় একটি কাজে ব্যস্ত আছি।"

জনমনে ক্ষোভ:
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সরকারের কোটি কোটি টাকা খরচ করে সড়ক নির্মাণ করা হলেও তদারকির অভাব ও ঠিকাদারের খামখেয়ালিপনায় কাজের মান অতি নিম্নমানের হচ্ছে। দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধ করে তদন্ত সাপেক্ষে সঠিক মান নিশ্চিত করা না হলে উদ্বোধনের অল্প দিনের মধ্যেই সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। 

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow