সুযোগ নষ্টের রাতে বিশ্বকাপ শেষ তুরস্কের

অনলাইন ডেস্কঃ
২০ জুন, ২০২৬ ১১:২৯ এএম
শেয়ার করুন:
সুযোগ নষ্টের রাতে বিশ্বকাপ শেষ তুরস্কের

যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত রোমাঞ্চকর ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে প্যারাগুয়ে। ম্যাচের পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জন নিয়ে খেলেও রক্ষণভাগের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে জয় ছিনিয়ে নিয়েছে লাতিন আমেরিকার দলটি। আর এই হারের ফলে গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেল তুরস্কের।

ম্যাচের শুরুতেই বড় ধাক্কা খায় তুরস্ক। খেলার মাত্র ৬৫ সেকেন্ডে জুলিও এনসিসোর ফ্লিকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে লক্ষ্যভেদ করেন প্যারাগুয়ের মাতিয়াস গালারসা। এটিই চলতি বিশ্বকাপের এখন পর্যন্ত দ্রুততম গোল। ম্যাচের শুরুতে পাওয়া এই গোলটিই শেষ পর্যন্ত প্যারাগুয়ের জয়ের নায়ক বানিয়ে দেয় গালারসাকে।

প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল তুরস্ক, অন্যদিকে প্যারাগুয়ে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। ফলে দুই দলের জন্যই ম্যাচটি ছিল টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই। কিন্তু প্রথম মিনিটেই গোল খেয়ে চরম চাপে পড়ে যায় ভিনচেঞ্জো মনতেলার শিষ্যরা। 

গোল হজমের পর তুরস্ক বলের দখলে এগিয়ে থেকে একের পর এক আক্রমণ চালালেও ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় সমতায় ফিরতে পারেনি। হাকান চালহানওলুর চমৎকার সেট-পিস থেকে মেরিহ দেমিরালের দুর্দান্ত এক হেডার পোস্টে লেগে ফিরে আসে। আরদা গুলের, কেনান ইলদিজ ও মের্ত মুলদুররা একাধিকবার প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগে ফাটল ধরালেও শেষ মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্তে গোলবঞ্চিত হতে হয় তাদের।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে আসে এক নাটকীয় মোড়। তুরস্কের ডিফেন্ডার মের্ত মুলদুরের সঙ্গে তর্কে জড়ানোর সময় মুখ ঢেকে কথা বলেন প্যারাগুয়ের তারকা মিগেল আলমিরোন। ভিএআর (VAR) পরীক্ষার পর রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গে মুখ ঢেকে কথা বলার অপরাধে লাল কার্ড পাওয়ার এই ঘটনাটি নতুন নিয়মের অধীনে চলতি বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

আলমিরোনের লাল কার্ডের সুবাদে দ্বিতীয়ার্ধে তুরস্কের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ১০ জনের প্যারাগুয়ে রক্ষণভাগে দুর্ভেদ্য প্রাচীর গড়ে তোলে। বিশেষ করে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিল বেশ কয়েকটি চমৎকার সেভ করে দলকে রক্ষা করেন। এছাড়া গুস্তাভো গোমেজ ও ওমার আলদেরেতে ডি-বক্সের ভেতর তুরস্কের একের পর এক আক্রমণ রুখে দেন।

দ্বিতীয়ার্ধে গোল পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে তুরস্ক। তবে মুলদুরের হেড, দেমিরালের সুযোগ কিংবা বদলি নামা জান উজুনের শট—সবই হয় লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে, না হয় প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের ডিফেন্ডারদের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়েছে। ম্যাচের শেষ দিকে আরদা গুলের সুবর্ণ সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেননি। এমনকি যোগ করা সময়ে দেমিরালের হেডও পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে শেষ হয়ে যায় তুরস্কের সমতায় ফেরার সমস্ত আশা।

এই জয়ে ২ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শেষ ৩২-এর দৌড়ে নিজেদের টিকিয়ে রাখল প্যারাগুয়ে। অন্যদিকে, দুই ম্যাচের দুটিতেই হেরে শূন্য পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে তুরস্ক। গ্রুপ ‘ডি’ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৬ পয়েন্ট নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের পয়েন্ট এখন সমান ৩। পরের ম্যাচে তুরস্ক যদি যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে ৩ পয়েন্টও পায়, তবুও টুর্নামেন্টের টাইব্রেকার নিয়মে (যেখানে হেড-টু-হেড রেকর্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে) অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের পেছনেই থাকতে হবে তাদের। ফলে তুরস্কের জন্য শেষ ম্যাচটি এখন কেবলই আনুষ্ঠানিকতার।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।