আলফাডাঙ্গায় ভুল স্বীকার করে আকাশ মিয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইলেন ছিরু খন্দকার

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা প্রতিনিধি, ফরিদপুরঃ
৩০ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:৫৬ এএম
শেয়ার করুন:
আলফাডাঙ্গায় ভুল স্বীকার করে আকাশ মিয়ার পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইলেন ছিরু খন্দকার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার জাটিগ্রামে মরিশাসপ্রবাসী সমাজসেবক আকাশ মিয়া ও তাঁর পরিবারকে জড়িয়ে সৃষ্ট বিরোধের শান্তিপূর্ণ অবসান ঘটেছে। তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরূপ মন্তব্যের ঘটনায় অনুতপ্ত হয়ে ভুল স্বীকার এবং নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন ছিরু খন্দকার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের ফলপ্রসূ মধ্যস্থতায় দুই পরিবারের মধ্যে এই সমঝোতা হওয়ায় এলাকাজুড়ে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য রফিক মেম্বারের বাড়িতে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এক সালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা ও রফিক মেম্বারের আন্তরিক উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। 

বৈঠকে আকাশ মিয়া ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে পূর্বে করা বিভিন্ন অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিরূপ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ছিরু খন্দকার (পিতা: মৃত মজিদ খন্দকার), আসমা বেগম (স্বামী: ইয়ার খন্দকার) এবং অন্তরা খাতুন (ইয়ার খন্দকারের মেয়ে ও কৃষ্ণপুর গ্রামের মিলন শেখের স্ত্রী)। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের ভুল স্বীকার করে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না বলে দৃঢ় অঙ্গীকার করেন।

আলোচনা শেষে মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে উভয় পরিবারের সদস্যরা পরস্পরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ও কোলাকুলি করে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের মানসিক দূরত্বের অবসান ঘটে এবং পারস্পরিক সম্পর্কের স্বাভাবিক ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে এলাকায় ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে পরিচিত মরিশাসপ্রবাসী সমাজসেবক আকাশ মিয়া মুঠোফোনে বলেন, *“মানুষের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝি হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়; তবে আলোচনার টেবিলে সেই ভুলের অবসান ঘটিয়ে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখাই সবচেয়ে বড় বিষয়। আমরা চাই সমাজে সবাই মিলেমিশে শান্তিতে বসবাস করুক। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও সৌহার্দ্য নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই।”*

এদিকে স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে যে কোনো সামাজিক বিরোধের নিষ্পত্তি সমাজে শান্তির পথ সুগম করে। দুই পরিবারের এমন ইতিবাচক সিদ্ধান্তের ফলে জাটিগ্রাম এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় থাকবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।