বিশ্ব পরিবেশ দিবসে থানচিতে চারা বিতরণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতামূলক সভা

অনুপম মারমা, থানচি প্রতিনিধি, বান্দরবানঃ
১৯ জুন, ২০২৬ ৫:৩১ পিএম
শেয়ার করুন:
বিশ্ব পরিবেশ দিবসে থানচিতে চারা বিতরণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতামূলক সভা

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় চারা গাছ বিতরণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে পাহাড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা, বন উজাড় বন্ধ এবং অবৈধভাবে প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

‘প্রকৃতি থেকে অনুপ্রেরণা, জলবায়ুর জন্য’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে স্থানীয় মেঘবর্তী রিসোর্টের হলরুমে এ কর্মসূচির আয়োজন করে কারিতাস বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম অঞ্চলের পিএইপি-৩ (PAEP-III) প্রকল্প।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং বনায়নের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। কারিতাস বাংলাদেশের পিএইপি-৩ প্রকল্পের বান্দরবান জেলার জুনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা (এগ্রোইকোলজি) উশৈনু মারমার সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট উবাথোয়াই মারমা।

এছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং মারমা অনুপম, ৩৬০ নম্বর কোয়াইক্ষ্য মৌজার হেডম্যান রেংচিং ম্রো এবং প্রকল্পের মাঠ সহায়ক ছাইন থোয়াই গ্য চাক ও পংমে মারমা।

বক্তারা বলেন, একসময় থানচি উপজেলা প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ছিল। পাহাড়ি ছড়া, বোল্ডার পাথর, বালু এবং বিভিন্ন প্রজাতির বনজ গাছে ভরপুর এ অঞ্চল বর্তমানে নানা কারণে তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও সম্পদ হারাতে বসেছে। কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, অসাধু চক্র এবং দায়িত্বশীলদের নীরব সহযোগিতায় প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংসের ফলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তারা আরও বলেন, প্রকৃতি ধ্বংসের কারণে পাহাড়ে ভূমিধস, পানির সংকট, জীববৈচিত্র্যের ক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, শুধু সরকার বা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবেশ রক্ষা সম্ভব নয়। সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। বৃক্ষরোপণ, পাহাড় কাটা বন্ধ, অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন রোধ এবং বন সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে।

তারা বলেন, “বিশ্ব পরিবেশ দিবস শুধু একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তোলার অঙ্গীকার। একটি গাছ একটি প্রাণ—এই বিশ্বাস থেকে সবাইকে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে এবং সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা করতে হবে।”

আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।