সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ জুন, ২০২৬ ১:০৮ পিএম
শেয়ার করুন:
সংকট কাটিয়ে স্বাভাবিক হচ্ছে ইসলামী ব্যাংক

পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠনের পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’-এর সার্বিক কার্যক্রম। গ্রাহকদের মধ্যকার উদ্বেগ ও আতঙ্ক কেটে যাওয়ায় নগদ অর্থ উত্তোলনের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে সচল হয়েছে সাময়িকভাবে বন্ধ থাকা এটিএম বুথ ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবা। অনেক গ্রাহক আগে ভেঙে ফেলা মেয়াদি আমানত (এফডিআর) পুনরায় সচল করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন শাখা ঘুরে এবং ব্যাংক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই ইতিবাচক চিত্র পাওয়া গেছে।

আমানত জমার পরিমাণ বৃদ্ধি
ব্যাংক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার ব্যাংকে নগদ অর্থ উত্তোলনের চেয়ে জমা বেশি হয়েছে ৯৬৪ কোটি টাকা। তবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) ও রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) ব্যবস্থায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা স্থানান্তরিত হওয়ায় দিন শেষে ব্যাংকের নিট অবস্থান ছিল প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ঋণাত্মক। যদিও এর আগের দিনগুলোতে এই ঋণাত্মক অবস্থান দৈনিক গড়ে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ছিল। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পূর্বে আটকে থাকা লেনদেনগুলো নিষ্পত্তি হওয়ার কারণে বর্তমানে কিছুটা চাপ থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হচ্ছে।

আমানতকারীদের জন্য বিশেষ সুযোগ ও ইতিবাচক সাড়া
আতঙ্কের কারণে সম্প্রতি যেসব গ্রাহক তাদের মেয়াদি আমানত হিসাব বন্ধ করে দিয়েছিলেন, তারা আবার ব্যাংকে ফিরতে শুরু করেছেন। গত কয়েক দিনে বন্ধ হওয়া হিসাবের মধ্যে ৫০২ জন গ্রাহক পুনরায় তাদের হিসাব সচল করেছেন, যার মাধ্যমে নতুন করে ৪৫ কোটি টাকা জমা পড়েছে। 

উল্লেখ্য, গত সোমবার ইসলামী ব্যাংকের পক্ষ থেকে এক ঘোষণায় জানানো হয়—উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ১ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে যারা মেয়াদি আমানত মেয়াদপূর্তির আগেই নগদায়ন (ভেঙে) করেছেন, তারা আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পুনরায় হিসাব সচলের আবেদন করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে আবেদন করলে গ্রাহকদের পূর্বের সব মুনাফা ও সুবিধা বহাল রাখা হবে। ব্যাংকের এই সময়োপযোগী ঘোষণার পর অনেক গ্রাহকই তাদের মেয়াদি আমানত পুনরায় চালু করছেন।

এটিএম ও অনলাইন সেবা সচল
গত সপ্তাহে ইসলামী ব্যাংকের অধিকাংশ এটিএম বুথ সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়লেও বর্তমানে তা সচল করা হয়েছে। গ্রাহকরা স্বাভাবিকভাবে বুথ থেকে অর্থ উত্তোলন করছেন এবং অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করতে পারছেন। 

ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মজুমদার জানান, গ্রাহকদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে লেনদেনের সব সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও বড়জোর এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে এবং খুব শিগগিরই অনলাইন লেনদেন পূর্ণাঙ্গভাবে উন্মুক্ত করে দেওয়া সম্ভব হবে।

নেপথ্যের সংকট ও বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ
গত ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়ার পর ১ জুন থেকে গ্রাহকদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ ও আন্দোলন শুরু হয়। এর ফলে সৃষ্ট আতঙ্কে ব্যাপক অর্থ উত্তোলনের কারণে ব্যাংকটি সাময়িক তারল্য সংকটে পড়ে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার আবেদন করে। 

পরবর্তীতে গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব দেয়। তিনি দ্রুত যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়ে একটি পাঁচ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠনের কাজ শুরু করেছেন এবং আমানতকারীদের ব্যাংকের ওপর আস্থা রেখে নির্বিঘ্নে লেনদেন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।