পাঁচ হাজার মুসলিমকে বের করে দিয়েছে ভারত

অনলাইন ডেস্কঃ
১৭ জুন, ২০২৬ ১২:৪৮ পিএম
শেয়ার করুন:
পাঁচ হাজার মুসলিমকে বের করে দিয়েছে ভারত

ভারতের সীমান্ত এলাকায় কোনো ধরনের আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই জাতিগত বাঙালি মুসলমানদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ বা জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক প্রতিবেদনে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছে।

সংস্থাটির দাবি, পশ্চিমবঙ্গের একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এ ধরনের পুশব্যাক বা জোরপূর্বক বহিষ্কারের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে জোর করে বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

শূন্যরেখায় চরম মানবিক সংকট
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বারবার লোকজনকে সীমান্ত অতিক্রম করিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে অনেক পরিবারকে সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো-ম্যানস ল্যান্ড) চরম মানবিক সংকটের মধ্যে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হচ্ছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের পঞ্চগড় সীমান্তে এমনই একটি পুশব্যাকের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭৫ ঘণ্টা ধরে চরম অচলাবস্থা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

আইনি সহায়তা ছাড়াই বহিষ্কার ও হয়রানি
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কথিত ‘অবৈধ অভিবাসী’ চিহ্নিত করার নামে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে নাগরিকদের ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে দিচ্ছে। তাদের কোনো ধরনের আইনি সহায়তা বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই সীমান্ত দিয়ে বের করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভারতের বৈধ পরিচয়পত্র থাকার পরও বেশ কিছু মানুষকে আটক ও হয়রানি করার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, যথাযথ বিচারিক ও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া এ ধরনের গণ-বহিষ্কার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সরাসরি পরিপন্থি। সংস্থাটি ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের সরকারের প্রতি এই পুশব্যাক কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার জোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্তে আটকে পড়া মানুষদের নিরাপত্তা ও মৌলিক মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সীমান্তে মানুষের পরিচয় এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের এই বিতর্কিত প্রক্রিয়ার কারণে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন মনে করছে, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আইনগত প্রক্রিয়া কঠোরভাবে বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।