বাজেটে কমতে ও বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

অনলাইন ডেস্কঃ
৯ জুন, ২০২৬ ২:১৪ পিএম
শেয়ার করুন:
বাজেটে কমতে ও বাড়তে পারে যেসব পণ্যের দাম

দেশীয় শিল্প খাতকে সুরক্ষা দিতে এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়াতে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কর ও ভ্যাট ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন বেশ কিছু আমদানি করা ও বিলাসী পণ্যের দাম বাড়তে পারে, অন্যদিকে দেশীয় শিল্পকে করছাড় দেওয়ার কারণে বাজারে একাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। 

আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করবেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে এটি। একই সঙ্গে এটি দেশের ৫৫তম এবং বর্তমান অর্থমন্ত্রীর প্রথম বাজেট।

বাজেটের আকার ও লক্ষ্যমাত্রা
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। 
রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা: ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা।
বাজেট ঘাটতি: ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা।
জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা: সাড়ে ৬ শতাংশ।
মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা: সাড়ে ৭ শতাংশ।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি): প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তা বাবদ ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

দেশীয় শিল্পে বিশেষ শুল্কছাড়ের পরিকল্পনা

স্থানীয় শিল্পের সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাণিজ্যকে উৎসাহিত করতে আসন্ন বাজেটে করছাড়ের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। কর অব্যাহতির পাশাপাশি ভ্যাট এবং পণ্য আমদানির শুল্ক-করেও উল্লেখযোগ্য সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক্স খাতকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং এই খাতে বিদ্যমান করছাড় বা কর অব্যাহতির সুবিধার মেয়াদ ২০৩০ সাল থেকে বাড়িয়ে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত করার প্রস্তাব আসতে পারে।

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে:

শিল্পের কাঁচামাল: দেশীয় শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎসে কর ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া রেগুলেটরি শুল্কের স্তর ৯টি থেকে কমিয়ে ৬টিতে নামিয়ে আনার প্রস্তাব আসতে পারে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য: চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতায় রাখতে উৎসে করের হার বর্তমানে প্রচলিত ১ থেকে ৫ শতাংশের পরিবর্তে কমিয়ে মাত্র ০.৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হতে পারে। একই সঙ্গে এসব পণ্যের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বা রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার করা হতে পারে।
ভোজ্যতেল: স্থানীয়ভাবে তৈলবীজ ব্যবহারের মাধ্যমে ভোজ্যতেল উৎপাদনে গতি আনতে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে সংশ্লিষ্ট দেশীয় ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে আগামী ১০ বছরের জন্য শূন্য শতাংশ কর হারের প্রস্তাব আসতে পারে। ফলে দেশীয় সরিষার তেলসহ অন্যান্য ভোজ্যতেলের দাম ভবিষ্যতে আরও সাশ্রয়ী হতে পারে।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে:

তামাকজাত পণ্য ও নিকোটিন: তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে শুল্ক হার বৃদ্ধির পাশাপাশি নিকোটিন পাউচের ওপর ৪০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপের প্রস্তাব আসতে পারে।
অ্যালকোহল: দেশে উৎপাদিত অ্যালকোহলের ওপর লিটারপ্রতি ৫০০ টাকা হারে ভ্যাট বা মূসক আরোপ করা হতে পারে।
কাজুবাদাম: কাজুবাদাম আমদানিতে শুল্কহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যা এর বাজারমূল্য বাড়াতে পারে।
আমদানিকৃত হিমায়িত মাছ: বাজারে উচ্চ মূল্যের বিলাসবহুল বা বিদেশি হিমায়িত মাছ আমদানির ওপর নতুন করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট বা মূসক আরোপ করা হতে পারে।
রড ও নির্মাণসামগ্রী: দেশে উৎপাদিত মাইল্ড স্টিল (এমএস) ও সমজাতীয় রড জাতীয় পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কর ও ভ্যাট প্রায় ১০ শতাংশ বাড়ানো হতে পারে, যার ফলে দেশের আবাসন ও নির্মাণ খাতে রডের দাম বাড়তে পারে।
বিলাসী ও আমদানি পণ্য: বিদেশি প্রসাধনী সামগ্রী, বিলাসী পণ্য, আমদানি করা উচ্চমূল্যের প্যাকেটজাত খাদ্যপণ্য এবং নতুন আরও ১০টি পণ্যের আমদানি পর্যায়ে ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব আসতে পারে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।