শ্রীনগরে ভুল দাগ নাম্বার দিয়ে ২৩টি দলিল সৃজন করে জোড় পূর্বক প্রতিবেশীর জমি দখলের চেষ্টা

এমএ কাইয়ুম মাইজভান্ডারি, ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি, মুন্সীগঞ্জঃ
১৪ জুন, ২০২৬ ৬:০৭ পিএম
শেয়ার করুন:
শ্রীনগরে ভুল দাগ নাম্বার দিয়ে ২৩টি দলিল সৃজন করে জোড় পূর্বক প্রতিবেশীর জমি দখলের চেষ্টা

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ভুল দাগ নাম্বার দিয়ে একই দাগে ২৩টি দলিল সৃজন করে জোড় পূর্বক প্রতিবেশীর জমি দখলের চেষ্টা অভিযোগ উঠেছে। 

সম্প্রতি উপজেলার হাসাড়া ইউনিয়নের দক্ষিন লস্করপুর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এই নিয়ে বিবাদী শাহ আলমগং বাদী হয়ে জমির প্রকৃতি মালিক রোস্তম আলী বেপারীর ওয়ারিশগংদের পক্ষ করে বিজ্ঞ আদালতে দাগ ভুল সংশোধনী মোকদ্দমা নং ১৯২/২৩ দায়ের করেন এবং জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে আরশাদ হোসেনগংদের বিবাদী করে পিটিশন মোকদ্দমা নং-১০৩/২৬ ধারা-১৪৫ কাঃ বিঃ দায়ের করেন।

জমির দলিলা পত্রে দেখা যায়, উপজেলার লস্করপুর মৌজার এসএ ৫৮০ আরএস ৭০৪ দাগের ষোলআনা ৫৮ শতাংশ নাল সম্পত্তির রেকর্ডিও মালিক মৃত রোস্তম আলী বেপারী। পরবর্তীতে এই সম্পত্তিতে সাবেক ৫৮০ দাগ ঠিক করে হালে ৭০৪ দাগের স্থলে ৭৫৪ দাগ ও সব কয়টি দলিলে বিগত ২৮/০৪/১৯৮০ তারিখ এবং বেশীভাগ দলিলে জমির পরিমান আড়াই,দেড়, আধা, তিন ও চার শতাংশ উল্লেখ করে মোট ২৩টি দলিল সৃজন করে আরশাদ হোসেন ও চাচাতো ভাই জামালগং । এতে মৃত রোস্তম আলী বেপারীকে দাতা এবং মৃত হায়দার আলী শেখের স্ত্রী আমিনা খাতুনকে গ্রহিতা দেখিয়ে ১৭টি এবং ৬ পুত্র আরশাদ,ছায়েদ,জাগির,শাহ আলম, দেলোয়ার ও আঃ কাদির গংয়ের নামে ৬ টি দলিল সৃজন করা হয়।

 বিগত ২৮/০৪/৮০ ইং সনের ৩১৮০ নং দলিল আরশাদ হোসেন শেখ নামে সৃজন হলেও তার ভোটার আইডি কাডে জন্ম তারিখ ০১/০১/১৯৮৫ সন উল্লেখ করা অর্থাৎ দলিল গ্রহিতার জন্মের ৫ বছর পূর্বেই তার নামে দলিলটি সৃজন করা হয়। ৩১৭৮ নং দলিলে শাহ আলমকে গ্রহিতা দেখিয়ে আরেকটি দলিল সৃজন করা হয়। সেখানে শাহ আলমের ভোটার আইডি কার্ডে বয়স উল্লেখ করা হয় ১/১২/১৯৭৫ ইং অর্থাৎ তার জন্মের ৫ বছর পরেই তাকে দলিল গ্রহিতা দেখানো হয়েছে। পরবর্তীতে আরএস ৭০৪ দাগে সম্পত্তির প্রকৃতি মালিক রোস্তম বেপারীর ছেলে ফরজ আলীসহ তিনপুত্র ও তিন মেয়ে মোট ছয়জন ওয়ারিশদের নিকট থেকে ন্যায্য মুল্যে দিয়ে ১১/১১/২৫ তারিখে দলিল নং ১১০২০ মুলে ক্রয় সুত্রে শাকিল,স্বরনীকা ও বিন ইয়ামিন মালিক হয়ে নামজারী, জমাভাগ প্রদান ও খাজনাদি পরিশোধ করেন।

ভুক্তভোগী মৃত রোস্তম আলী বেপারীর ওয়ারিশ ফরজ আলী অভিযোগ করে বলেন, এই সম্পত্তি আমার বাবা মৃত হায়দার আলী শেখের কাছে অভাবের কারনে বন্ধক রেখেছিল। ৫ বছর পর হায়দার আলী ঐ সম্পত্তি নিজের দাবী করে আমার বাবাকে আর সম্পত্তিতে যেতে দেয়নি।

 পরবর্তীতে পর্চা তুলে দেখি ঐ সম্পত্তি আমার নামে দুইটি রের্কড আছে। এর প্রেক্ষিতে রোস্তম আলৌ বেপারীর আমরা ৬ ওয়ারিশ মিলে ৫৮ শতাংশ সম্পত্তি শাকিলগংয়ের কাছে সাব-কাবলা দলিল মুলে বিক্রি করেছি। বর্তমানে আরশাদ পক্ষ আমাদের সম্পত্তি জোড় পূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছে।

এব্যাপারে বর্তমান জমির ক্রয় সুত্রে প্রকৃত মালিক পক্ষের জসিম উদ্দিন জানান, আরশাদ হোসেন ও জামালগং আমার প্রতিবেশী চাচাতো ভাই সম্পর্কের। তাদের বর্তমান বসতবাড়ীর সাবেক ৫৭৯ দাগের ৩১ শতাংশ সম্পত্তি এওয়াজ বদলী দলিলের মাধ্যমে আমার বাবাকে ৫৮০ দাগের ২৬ সম্পত্তি লিখে দেয়। পরবর্তীতে জানতে পারি, সাবেক ৫৮০ হালে ৭০৪ দাগের তাদের কোন সম্পত্তি নেই। ৭০৪ দাগের সম্পত্তির প্রকৃতি মালিক ফরজ আলীগংয়ের নিকট হতে আমরা এই সম্পত্তি ক্রয় সুত্রে মালিক হয়ে জমি ভোগ দখলে করতে গেলে আরশাদ ও জামালগং আমাদের বাধা দেয় এবং পূনরায় জমিতে গেলে জানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে।

এব্যাপারে অভিযুক্ত আরশাদ হোসেন ও জামালের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা হায়দার আলী শেখের ওয়ারিশগণ এই সম্পত্তি ক্রয় সুত্রে মালিক হয়ে ভোগ দখলে আছি। আমাদের দলিলে দাগ নাম্বার ভুল লিপিবদ্ধ হওয়ায় আদালতে সংশোধনী মামলা দায়ের করেছি।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।