লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই উত্তাল পদ্মা পারাপার, গোপালপুর-মৈনট ঘাটে ইজারা দুর্নীতির অভিযোগ

নুরুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ
২৯ জুলাই, ২০২৬ ৬:৫৭ পিএম
শেয়ার করুন:
লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই উত্তাল পদ্মা পারাপার, গোপালপুর-মৈনট ঘাটে ইজারা দুর্নীতির অভিযোগ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গোপালপুর-মৈনট নৌরুটে জীবনহানির চরম ঝুঁকি নিয়ে চলছে যাত্রী পারাপার। শ্রাবণের উত্তাল পদ্মা নদী পার হতে গিয়ে হাজার হাজার ঢাকাগামী যাত্রী প্রতিনিয়ত নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করেই স্পিডবোট ও লঞ্চে উঠছেন। একই সাথে ঘাটটি খাস আদায় থেকে ইজারা প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের পর থেকেই নিরাপত্তা শিথিলতার পাশাপাশি কোটি কোটি টাকার রাজস্ব দুর্নীতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে।

বুধবার সরেজমিনে গোপালপুর ও মৈনট ঘাট ঘুরে দেখা যায়, বৈরী আবহাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যেও কোনো ধরনের লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই স্পিডবোটে যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ১৪ জন বহনের কথা থাকলেও একটি স্পিডবোটে ১৯ জন পর্যন্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, যাত্রী সুরক্ষার দিকে নজর না থাকলেও বাড়ানো হয়েছে ভাড়া। আগের ১৫০ টাকার পরিবর্তে এখন নেওয়া হচ্ছে ১৮০ টাকা। একই নৌরুটে চলাচলকারী লঞ্চগুলোতেও পর্যাপ্ত লাইফ বয়া নেই বলে যাত্রীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

যাত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়ে ঘাট কর্তৃপক্ষের চরম উদাসীনতা লক্ষ্য করা গেছে। ঘাটে আসা যাত্রী আরমান শেখ (৪৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা স্পিডবোটে ওঠার পর বারবার লাইফ জ্যাকেট চেয়েছি। কিন্তু চালক আমাদের কথায় বিন্দুমাত্র গুরুত্ব দেননি।” 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্পিডবোট চালক হারুন মোল্যা দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করে বলেন, “লাইফ জ্যাকেট ড্রয়ারে রাখা আছে, প্রয়োজন হলে বের করা হবে।” 

ইজারাদার বাবুল শিকদার নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, “প্রতিটি স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট রয়েছে। যাত্রীরা না পরলে আমাদের করার কিছু নেই।” 

এদিকে বদলিজনিত কারণে এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া মমতাজের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা শিথিলতার পাশাপাশি ঘাট ইজারা নিয়ে উঠেছে বিশাল অনিয়মের অভিযোগ। গোপালপুর-মৈনট আন্তঃজেলা ঘাটের সাবেক ইজারাদার ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. শাহজাহান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, “২০২২ সালে আমরা ৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা রাজস্ব দিয়ে ঘাটের ইজারা নিয়েছিলাম। কিন্তু চলতি বছর ঢাকা কমিশনারের কার্যালয় কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা ছাড়াই এবং সর্বোচ্চ দরদাতাদের না জানিয়ে মাত্র ৭০ লাখ টাকায় স্থানীয় একটি চক্রের কাছে গোপনে ঘাটটি ইজারা দিয়েছে। এটি সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ ও অবৈধ।”

তিনি আরও জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর যাত্রী চাপ কিছুটা কমলেও সম্প্রতি এ নৌরুটে আবার যাত্রী সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু খাস আদায়ের সময় যে নিরাপত্তা জোরদার ছিল, ইজারা দেওয়ার পর তা পুরোপুরি শিথিল হয়ে পড়েছে।

নদী পারাপারে যেকোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে অবিলম্বে লাইফ জ্যাকেটের বাধ্যবাধকতা, অতিরিক্ত ভাড়া ও যাত্রী বহন বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। একই সাথে গোপালপুর-মৈনট ঘাট ইজারার নামে রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।