বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস রাশিয়ার

অনলাইন ডেস্কঃ
৯ জুন, ২০২৬ ১২:০৪ পিএম
শেয়ার করুন:
বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস রাশিয়ার

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়া। বর্তমান অস্থিতিশীল বিশ্ব পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক দক্ষতার সর্বোচ্চ ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বাংলাদেশের পাশে থাকার এই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি। 

সোমবার (৮ জুন) রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এই আশ্বাস দেওয়া হয়। 

বৈঠকের শুরুতে আসন্ন ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় তাকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান সের্গেই লাভরভ। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জাতিসংঘের কেন্দ্রীয় ভূমিকা পুনর্প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, “বিশ্বজুড়ে চলমান পরিস্থিতি ক্রমশ অস্থিতিশীল ও জটিল হয়ে উঠছে। এই পরিষদের আগামী দিনের সভাপতি হিসেবে আপনাকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কাজ করতে হবে। আপনার এই প্রচেষ্টায় সহায়তার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সবকিছু করব।”

জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিজয়ের ক্ষেত্রে রাশিয়ার সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানান। একইসঙ্গে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে রাশিয়ার ঐতিহাসিক অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। 

**রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘সহযোগিতার সৌধ’**
বৈঠকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় ‘সহযোগিতার সৌধ’ বলে আখ্যায়িত করেন খলিলুর রহমান। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ সময় নিশ্চিত করেন যে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি (স্পেন্ট নিউক্লিয়ার ফুয়েল) ব্যবস্থাপনায় মস্কো সম্মত রয়েছে। 

পাশাপাশি মহাকাশ ও পারমাণবিক শক্তি প্রযুক্তিতে ঢাকার গভীর আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অংশীদার রাশিয়ায় বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির কর্মসংস্থান সৃষ্টির দারুণ সুযোগ রয়েছে।

**রোহিঙ্গা সংকট ও ব্রিকসে অন্তর্ভুক্তি**
দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ বিষয়ে মস্কোর অবস্থান স্পষ্ট করে লাভরভ জানান, এই সমস্যার সমাধান অবশ্যই দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে হওয়া উচিত। বাইরের কোনো শক্তির এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বহিরাগত শক্তি মিয়ানমার সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র দিয়ে চরমপন্থা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে।

বৈঠকে অর্থনৈতিক জোট ব্রিকসে (BRICS) বাংলাদেশের যোগদানের বিষয়েও মস্কোর পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন লাভরভ। তবে জোটটিতে নতুন সদস্য নেওয়ার ক্ষেত্রে বর্তমানে যে সাময়িক স্থগিতাদেশ রয়েছে, তা উঠে যাওয়ার পরই এটি কার্যকর হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া ইউক্রেন ইস্যুতে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 

**সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি সামনে রেখে নতুন চুক্তির ইঙ্গিত**
আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫৫তম বার্ষিকী উদযাপিত হতে যাচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মাইলফলককে স্মরণীয় করে রাখতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি এবং সামরিক-প্রযুক্তিগত খাতে বেশ কিছু নতুন চুক্তি সইয়ের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে উভয় দেশই দৃঢ় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।