সব সরকারি অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশনা

অনলাইন ডেস্কঃ
৯ জুন, ২০২৬ ১২:১৪ পিএম
শেয়ার করুন:
সব সরকারি অফিসের জন্য জরুরি নির্দেশনা

চলতি বছর রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ যথাযোগ্য মর্যাদায় এবং ব্যাপক কর্মসূচির মাধ্যমে উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে সরকার। দিবসটি সফলভাবে পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দফতর, সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ শাখার উপসচিব শবনম মুস্তারী রিক্তা স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়। চিঠিতে গত ৩ মে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার কার্যবিবরণী সংশ্লিষ্ট সব দফতরে পাঠিয়ে সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের অনুরোধ করা হয়েছে।

মাঠ প্রশাসন ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের প্রস্তুতি
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিবসটি উদযাপনে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে মাঠ প্রশাসন পর্যন্ত সমন্বিত প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং সিটি করপোরেশনসহ দেশের প্রায় সব সরকারি প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

ইতিমধ্যেই মাঠ প্রশাসনের অংশ হিসেবে দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), পুলিশ সুপার (এসপি) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কাছে সভার কার্যবিবরণী পাঠানো হয়েছে। এর ফলে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও একযোগে সমন্বিত কর্মসূচি পালিত হবে।

নিরাপত্তা জোরদার ও প্রচার কার্যক্রমের গুরুত্ব
দিবসটি উপলক্ষে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্ট গার্ড, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি দিবসটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও তাৎপর্য সর্বস্তরের মানুষের কাছে তুলে ধরতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি), বাংলাদেশ বেতার, তথ্য অধিদপ্তর এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরকে বিশেষ প্রচার কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কর্মসূচি ও বিভিন্ন খাতের সম্পৃক্ততা
দিবসটি উপলক্ষে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনাসভা, স্মৃতিচারণা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আলোকচিত্র প্রদর্শনী এবং বিশেষ প্রকাশনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আলোকসজ্জা, বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা এবং গণসচেতনতামূলক কার্যক্রমের আয়োজন করা হবে।

জাতীয় পর্যায়ের কর্মসূচির পাশাপাশি শিক্ষা, সংস্কৃতি, যুব ও ক্রীড়া, স্থানীয় সরকার, স্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবহন, ধর্ম এবং সমাজকল্যাণসহ বিভিন্ন খাতভিত্তিক বিশেষ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এ কাজে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ স্কাউটস, বিএনসিসি এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দিবসটির গুরুত্ব জনগণের কাছে অর্থবহভাবে তুলে ধরা হবে। সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।