নওগাঁয় ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ীকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার-২

আব্দুল মজিদ মল্লিক, জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁঃ
১৩ জুন, ২০২৬ ৯:২৬ পিএম
শেয়ার করুন:
নওগাঁয় ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ীকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার-২

নওগাঁয় ইলেকট্রনিক্স নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এসময় নিহত শফিকুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল,একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় দেশীয় অস্ত্রও।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে। তিনি পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যাবসা করতেন।

গ্রেফতাররা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) ও মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত বৃহস্পতিবার সদর উপজেলার বারমাসি বিলে কচুরিপানার নিচ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। শফিকুলের পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসার লোভ এবং ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুলসহ তিনজন গত (৭ জুন) মান্দার সুতিহাটে শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। 

পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ জুন শফিকুলকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বলেন। পরে সেখান থেকে দুইটি মোটরসাইকেলে করে বারোমাসি বিল পাড় ঘাটি ব্রিজে চলে যান তারা। সেখানে হঠাৎ করে পেছন থেকে এক পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় টান দেয়। টান দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতার আসামি জয়নুল হাত ও আশরাফুল পা চেপে ধরেন। তারপর শফিকুল নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তিনজন পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যান।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশের একটি টিম। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা জয়নুলকে প্রথমে শহরের এক এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জয়নুল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করেছেন। হত্যার পর কাছে থাকা ১৫০০ টাকা তিনজন ভাগাভাগি করে শফিকুলের মোটরসাইকেল নিয়ে যান তারা।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

What's Your Reaction?

like

dislike

love

funny

angry

sad

wow

এই সাইট কুকিজ ব্যবহার করে. সাইটটি ব্রাউজ করার মাধ্যমে আপনি আমাদের কুকিজ ব্যবহারে সম্মত হচ্ছেন।